রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ ধাপে রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা এদের মধ্য থেকেই এমডি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু এই তিন প্রার্থীর একজনকে নিয়ে গণমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ওই প্রার্থীর নাম সাব্বির আহমেদ। তিনি বর্তমানে ইডটকো বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক (প্রকৌশল) পদে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগের আবেদনে পাওয়ার সেক্টরের সিনিয়র ম্যানেজমেন্টে কাজের অভিজ্ঞতার শর্তপূরণে তিনি জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। বলা হচ্ছে, ভুয়া বা যাচাইযোগ্য নয় এমন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর নিয়োগ অনেকটাই চূড়ান্ত।
জানা যায়, বিগত সরকারের সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর এমডি পদে আবেদন করা যেত। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগের এক 'অতি জরুরি' অফিস আদেশে বলা হয়, এমডি পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৩ বছর উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা পদে (প্রধান প্রকৌশলী বা সমমানের এবং তদুর্ধ) কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর আলোকেই ডিপিডিসির এমডি পদের জন্য প্রার্থীরা আবেদন করেন।
ডিপিডিসির এমডি পদে আবেদনকারী সাব্বির উদ্দিন আহমেদের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি ইডটকোতে কর্মরত রয়েছেন ৫ বছর ৮ মাস ধরে। এর আগে কানাডার অ্যালায়েন্স পাওয়ারে ৪ বছর ৬ মাস, অ্যালাইড ইন্টিগ্রেটর ইনকরপোরেশনে ৮ মাস, প্রাইমারি ইন্জিনিয়ারিং এনড কনস্ট্রাকশন করপোরেশনে ২ বছর ৩ মাস, এমেক ফস্টার হুইলারে ৩ বছর ১০ মাস এবং এমসিডব্লিউ গ্রুপ অফ কোম্পানিজে ৩ বছর ৩ মাস কাজ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে যুক্ত ছিলে এক বছরেরও কম সময়।
লিংকডইন প্রোফাইলে সাব্বির আহমেদ আরো উল্লেখ করেছেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রোজেক্ট ম্যানেজার, প্রোজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ও গ্র্যাজুয়েট রিসার্চার হিসেবে ১৬ বছর কাজ করেছেন। তবে এসব অভিজ্ঞতা কোনো স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ দ্বারা যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সাব্বির আহমেদ কানাডিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে চার বছর ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনমতে, এটিকেই তিনি পাওয়ার সেক্টরের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতা হিসেবে দাবি করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছে ২০২০ সালে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ বিতরণ বা গ্রিড ম্যানেজমেন্টের কাজ করারও তেমন কোনো দৃষ্টান্ত মিলেনি বলে গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের একটি ওয়েবসাইট (alliancepower.ca) থাকলেও সেখানে কোনো প্রকল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য কিংবা অর্থনৈতিক প্রতিবেদন নেই। কানাডার সরকারি ব্যবসায়িক ডাটাবেসেও কোম্পানিটির নিবন্ধিত কোনো রেকর্ড নেই। কোম্পানির প্রকৃত অফিস, কর্মী কিংবা চলমান প্রকল্প সম্পর্কেও কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয় ইউনিট #১০২, ৮০৪৭ ১৯৯ স্ট্রিট, ল্যাংলি, বিসি ২০২৫। সেখানে বিক্রয়ের জন্য সাইন বোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
তবে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অ্যালায়েন্স পাওয়ারের ওয়েবসাইটে (alliancepower.ca) দেখা যায়, হেড অফিসের ঠিকানা লেখা রয়েছে : 203-8047 199 St, Langley BC V2Y 0E2। ইমেইল info@alliancepower.ca, ফোন : 1-800-690-9808।
কানাডার সরকারি ওয়েবসাইটের (ised-isde.canada.ca) ফেডারেল করপোরেশন ইনফরমেশন সেকশনে দেখা যায়-
Corporate name: Alliance Power Ltd.' Status: Active, Corporation number:1186838-1, Business number (BN):750095671RC0001, Governing legislation:Canada Business Corporations Act - 2020-01-27।
অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মঅভিজ্ঞতা ডিপিডিসির এইচআর দপ্তর থেকে সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে এইচআর দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলা স্কুপকে নিশ্চিত করেছেন যে, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই প্রার্থীদের ডাকা হয়। যথানিয়মে লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমেই মেধা মূল্যায়ন করে নিয়োগ কমিটি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি ওই কর্মকর্তার।
এসব বিষয়ে জানতে সাব্বির আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ডিপিডিসির এমডির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদকে মুঠোফোন একাধিকবার কলা করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এসকে
কে হচ্ছেন ডিপিডিসির এমডি?
বিদ্যমান মানদণ্ডেই এমডি নিয়োগ!
এমডি নিয়োগের সার্কুলার ঘিরে ডিপিডিসিতে ক্ষোভ
ঝুলে আছে এমডি নিয়োগের মানদণ্ড সংশোধনী!
শীঘ্রই এমডি পদে নিয়োগের মানদণ্ডে সংশোধনী : বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নেতৃত্ব দেবেন প্রকৌশলীরাই