ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিপিডিসিতে অসন্তোষ

বিদ্যমান মানদণ্ডেই এমডি নিয়োগ!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৪-০৯-২০২৫ ০৩:১৮:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৫ ০১:২২:৩৫ অপরাহ্ন
বিদ্যমান মানদণ্ডেই এমডি নিয়োগ!
প্রকৌশলীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিতে যাচ্ছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এতে করে সংস্থাটিতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টায় রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের বিদ্যুৎ ভবনে ডিপিডিসি'র সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অ্যাডমিন ও এইচ আর) ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব সোনা মনি চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ডিপিডিসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য ভাইভা কার্ড যাদের নামে ইস্যু করা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ। তবে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই তালিকা চূড়ান্ত করে প্রার্থীদের ভাইভা কার্ড পাঠানো হয়েছে। এখানে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।

এইচ আর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৫ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ১২ জনের নামে ভাইভা কার্ড পাঠানো হয়েছে। 

তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহিদুল ইসলাম, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির প্রধান ক্রয় কর্মকর্তা (সিপিও) মো. জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রামানিক, নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) সাবেক নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শরিফুল ইসলাম, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী বি এম মিজানুল হাসান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ কেন্দ্রীয় জোন) মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) মোহাম্মদ হাসানাত চৌধুরী এবং ইডকটো বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক (প্রকৌশল) সাব্বির উদ্দিন আহমেদ।

বাংলা স্কুপের অনুসন্ধানে এই বারোজনের ছয়জনের বিরুদ্ধে মিলেছে পতিত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানাবিধ অভিযোগ। 

বিপিডিবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহিদুল ইসলাম সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাকরির বয়স থাকার পরও চলতি বছর ডেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. জাকির হোসেনের চুক্তি নবায়ন না করে তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়। বিএনপি ঘরানার প্রকৌশলী হলেও আওয়ামী শাসনামলে ওই পদে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে বিদায় করে দেওয়া হয়।

নেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন সংস্থাটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর একান্ত আস্থাভাজন জাকিউল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চলতি বছর পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মোহাম্মদ শহীদ হোসেনের আর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি।

ডেসকোর প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চলতি বছর প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা পতিত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য থাকায় সে সময় ব্যাপক সুবিধা ভোগ করেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আমি পদোন্নতি পেয়েছি।

পিজিসিবি থেকে কিউ এম শফিকুল ইসলাম বিগত সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানের হাত ধরেই ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁর নিয়োগ নিয়ে তখনই অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশল পরিষদ বিদ্যুৎ খাতের দুুর্নীতিবাজদের যে তালিকা করেছিল, সেখানে তাঁর নাম ছিল প্রথম সারিতে। প্রকৌশলীদের অভিযোগ, ডিস্ট্রিবিউশনে কিউ এম শফিকুলের যোগ্যতা একেবারেই নেই। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর মাঠ পর্যায়ে যে দক্ষতা রয়েছে, নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তাঁর তা-ও নেই। এই বাস্তবতায় উনি যদি এমডি পদে নিয়োগ পান, তবে সংস্থা চলবে কীভাবে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রকৌশলীরা।

ডিপিডিসির জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) মোহাম্মদ হাসানাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রকৌশলী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তাঁরা বলছেন, পতিত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর যোগাযোগ ছিল। এই কর্মকর্তা তাঁর দপ্তরের কক্ষে অটোলক ব্যবহার করে অফিস করেন। বদমেজাজী এই কর্মকর্তাকে জরুরি প্রয়োজনে কখনই পাশে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ অধীনস্তদের।

তবে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন ডেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বিএনপি মতাদর্শের প্রকৌশলী হওয়ায় চাকরিজীবনে সময়মত পদোন্নতি পাননি। জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলে ডিপিডিসিসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ বিতরণী কোম্পানিতে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম-দ্বিতীয় হলেও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এদিকে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের মানদণ্ড বিদ্যুৎ বিভাগ সংশোধন না করে বিদ্যমান নীতিমালায় নিয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকায় বিতরণী কোম্পানির প্রকৌশলীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে মেধাসম্পন্ন অনেক প্রকৌশলী এই পদে আবেদন করতে পারেননি। ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা বলেন, সারা জীবন ডিপিডিসিতে নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করেছি। প্রাথমিক যোগ্যতা থাকার পরও মানদণ্ড সংশোধন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির এমডি পদে আবেদনই করতে পারলাম না। এই পরিস্থিতি চরম হতাশার। এর ফলে মেধাবীদের জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো বলে মনে করেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অ্যাডমিন ও এইচ আর) ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব সোনা মনি চাকমাকে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ও বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

​এমডি নিয়োগের সার্কুলার ঘিরে ডিপিডিসিতে ক্ষোভ
ঝুলে আছে এমডি নিয়োগের মানদণ্ড সংশোধনী!
​শীঘ্রই এমডি পদে নিয়োগের মানদণ্ডে সংশোধনী : বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
​বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নেতৃত্ব দেবেন প্রকৌশলীরাই


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ