আদানির বিকল ইউনিট সচল, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০১:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৫:২৪:২২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ফলে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদন বেড়ে ৭৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। ফলে সারাদেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা হলেও কমে আসবে, যা প্রচ্ছন্নভাবে কমাবে জনদুর্ভোগও।
আদানি পাওয়ারের একটি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালুর প্রক্রিয়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে।
এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে এসেছিল। ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।
আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থাও চাপে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় তিন হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। ৮০০ মেগাওয়াটের এই ইউনিটটি চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স