ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​ডিপিডিসি

স্বৈরাচারের সেই দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৫ ০৪:২২:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৫ ০৭:৩৬:৫০ অপরাহ্ন
স্বৈরাচারের সেই দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে! সোনামণি চাকমা ও কিউ এম শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি
দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (ডিপিডিসি) বহাল তবিয়তে রয়েছেন তার দোসররা। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ এদের তালিকা বিদ্যুৎ উপদেষ্টার কাছে পাঠালেও জোরালো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত এসব কর্মকর্তার বিদেশে পাচার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনারও কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর ডিপিডিসির দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠিয়ে তাদের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছিল। ওই তালিকার যেসব কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন তাঁরা হলেন- নির্বাহী পরিচালক (এইচআর) সোনামণি চাকমা, নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম, জিটুজি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজিবুল হাদী, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) নিহার রঞ্জন সরকার এবং বনশ্রী ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী হিসাবরক্ষক ও শ্রমিকলীগ নেতা মো. জসিমউদ্দিন।

এসব কর্মকর্তা বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ অনিয়ম ও শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের সাথে জড়িত বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা বিগত স্বৈরাচার সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, যা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং শহীদদের সাথে চরম প্রতারণা।

ডিপিডিসির সাধারণ প্রকৌশলীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট এসব কর্মকর্তা আওয়ামী শাসনামলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করার পরও কীভাবে এখনও চাকরি করছেন, তা এক বিস্ময়! এরা যে শুধু স্বপদে বহাল রয়েছেন তা নয়, বিপুল উদ্যমে আগের মতই চালিয়ে যাচ্ছেন অপকর্ম। এখনও এদের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত না নেয়া হলে সৎ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ভুল বার্তা পৌছাবে। 

জানা গেছে, ডিপিডিসির সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন নির্বাহী পরিচালক, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলমান। তবে তদন্তের ধীর গতি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আরও সাহসী ও বেপরোয়া করে তুলেছে। সূত্রের দাবি, নির্বাহী পরিচালক (এইচআর) সোনামণি চাকমা এখনও স্বপদে বহাল থাকায় তাঁর দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে। প্রকৌশলী থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকর্মী - কে কোথায় বদলি হবে, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এখনও তা নির্ধারণ করে চলেছেন তিনি। 

অন্যদিকে, কিউ এম শফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) পদে যোগদান করেই গড়ে তুলেছিলেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট। তাই দুর্নীতিবাজদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল প্রথমদিকে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে সূত্রের দাবি। 

বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদের নেতা জিহাদুল হক তালুকদার বাংলা স্কুপকে বলেন, ডিপিডিসির দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। যারা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন, অন্তর্বতী সরকার তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এসকে

বহাল তবিয়তে দুর্নীতিবাজরা, বিদ্যুৎ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা
ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদের
​'বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোমড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে'
'দুর্নীতির দায় বিদ্যুৎ সচিব এড়াতে পারেন না'


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ