ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে বেড়িবাঁধে সিমেন্ট-কংক্রিটের ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অংশে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে নদীভাঙন ও বন্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ও টেকসইভাবে বাঁধ সংস্কার করা না হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাসপদুয়া ও পরশুরাম বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে ভারতের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগরে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের উত্তর কোলাপাড়ার খিলপাড়া এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত বাংলাদেশের অংশে বাঁধ সংস্কার ও ব্লক বসানোর দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০০৩ সালে উত্তর কোলাপাড়ায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ২৫ হাজার সিসি ব্লক তৈরি করা হয়েছিল। গ্রামের রেললাইন সেতুর পূর্ব পাশে এসব ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজও শুরু হয়। তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভারতের আপত্তিতে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালে বল্লামুখা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিলে কোলাপাড়া ও নিজ কালিকাপুরে তৈরি করা সিসি ব্লকের কিছু অংশ সেখানে ব্যবহার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২১৬৩ নম্বর পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগরে ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের পরশুরাম বাজার-সংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বাঁধ সংস্কারে দুই পক্ষ সম্মত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উত্তর কোলাপাড়ার মাজারবাড়ি কবরস্থান-সংলগ্ন কহুয়া নদীর বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর বাইরেও প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন, ‘বাঁধের আরও প্রায় ২০০ মিটার মেরামত করা হয়নি। বাংলাদেশের অংশে ব্লক দিয়ে বাঁধ সংস্কার করা না হলে মাজারবাড়ি মসজিদ, কবরস্থানসহ আশপাশের কয়েক হাজার পরিবার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপন বলেন, বাংলাদেশের বেড়িবাঁধের তুলনায় ভারতের বাঁধ প্রায় চার ফুট উঁচু এবং বেশি টেকসই। দ্রুত সংস্কার করা না হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া ও পরশুরাম বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জন্য ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু ও পাউবো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, ‘গত বন্যায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ভারতের অংশে সিসি ব্লক বসানোর কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে তাদের বাঁধ নির্মাণ শেষ হতে পারে। এর আগে বাংলাদেশের অংশের কাজ শেষ না হলে পরে বাঁধ নির্মাণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
উত্তর কোলাপাড়ার খিলপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, কহুয়া নদীর বাংলাদেশ অংশের বাঁধের বিভিন্ন স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতের অংশে বাঁধ নির্মাণ ও ব্লক বসানোর কাজ শুরু হওয়ায় এপারের বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমান অবস্থায় বাঁধটি পানির চাপ সামাল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পরশুরাম বাজারসহ উত্তর ও দক্ষিণ কোলাপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাউবো ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কহুয়া নদীর বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ভারতের অংশে সিসি ব্লক বসানোর বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিবুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে ভারতের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগরে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের উত্তর কোলাপাড়ার খিলপাড়া এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত বাংলাদেশের অংশে বাঁধ সংস্কার ও ব্লক বসানোর দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০০৩ সালে উত্তর কোলাপাড়ায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ২৫ হাজার সিসি ব্লক তৈরি করা হয়েছিল। গ্রামের রেললাইন সেতুর পূর্ব পাশে এসব ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজও শুরু হয়। তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভারতের আপত্তিতে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালে বল্লামুখা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিলে কোলাপাড়া ও নিজ কালিকাপুরে তৈরি করা সিসি ব্লকের কিছু অংশ সেখানে ব্যবহার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২১৬৩ নম্বর পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগরে ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের পরশুরাম বাজার-সংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বাঁধ সংস্কারে দুই পক্ষ সম্মত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উত্তর কোলাপাড়ার মাজারবাড়ি কবরস্থান-সংলগ্ন কহুয়া নদীর বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর বাইরেও প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন, ‘বাঁধের আরও প্রায় ২০০ মিটার মেরামত করা হয়নি। বাংলাদেশের অংশে ব্লক দিয়ে বাঁধ সংস্কার করা না হলে মাজারবাড়ি মসজিদ, কবরস্থানসহ আশপাশের কয়েক হাজার পরিবার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপন বলেন, বাংলাদেশের বেড়িবাঁধের তুলনায় ভারতের বাঁধ প্রায় চার ফুট উঁচু এবং বেশি টেকসই। দ্রুত সংস্কার করা না হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া ও পরশুরাম বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জন্য ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু ও পাউবো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, ‘গত বন্যায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ভারতের অংশে সিসি ব্লক বসানোর কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে তাদের বাঁধ নির্মাণ শেষ হতে পারে। এর আগে বাংলাদেশের অংশের কাজ শেষ না হলে পরে বাঁধ নির্মাণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
উত্তর কোলাপাড়ার খিলপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, কহুয়া নদীর বাংলাদেশ অংশের বাঁধের বিভিন্ন স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতের অংশে বাঁধ নির্মাণ ও ব্লক বসানোর কাজ শুরু হওয়ায় এপারের বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমান অবস্থায় বাঁধটি পানির চাপ সামাল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পরশুরাম বাজারসহ উত্তর ও দক্ষিণ কোলাপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাউবো ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কহুয়া নদীর বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ভারতের অংশে সিসি ব্লক বসানোর বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিবুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন