দিনের বেলা দুপুরের দিকে সর্বোচ্চ ৫৮৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। নবায়নযোগ্য এই জ্বালানির সরবরাহ ওই সময়ের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগামী গ্রীষ্মে এই উৎস থেকে আরও ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুতের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণে ব্যাটারি ব্যবস্থা এবং সঞ্চালন অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে এসেছে ৫৮৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, ওই সময় মোট উৎপাদনের ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। সূর্যের আলো থাকলেই কেবল এ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা গেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা সম্ভব হতো। বাংলাদেশে এখনো এ ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সৌরবিদ্যুৎ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। তবে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির সংকট বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূর্য যখন মধ্যগগনে থাকে, তখন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হয়। সকাল ও বিকালে উৎপাদন তুলনামূলক কম থাকে। বৃহস্পতিবারের উৎপাদন চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। সকাল ৭টা থেকে অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। ওই সময় দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া গেছে ৫৮ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদনের ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, দুপুর ২টায় দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ এসেছে অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে। ওই সময় মোট উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৮৬৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া গেছে ৩৯৮ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টার পর আর সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
এদিকে আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে আরও ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এর অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এর মধ্যে শুধু ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী বছর গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সৌরবিদ্যুতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ উদ্যোগ সফল হলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত আট মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ অন্যতম কার্যকর পথ।
সরকারের আশা, নতুন সক্ষমতা যুক্ত হলে দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময় প্রচলিত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, পিডিবি নিজেদের অফিসের ছাদেও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসাচ্ছে। সেখান থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় মেগাওয়াটের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন হয়েছে। সেখানে কাজ শুরু করা হচ্ছে। সরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এখন সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে। আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে সন্ধ্যা ও রাতের চাহিদার সময় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎই হবে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎস। তবে তা একদিনে সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে এ পথে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজের গতি এখনো অনেক ধীর, যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সম্প্রতি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যা স্বাগত জানান তিনি।
দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, এতে খরচ বাড়ছে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ অন্যান্য উৎসের তুলনায় কম। দিনের বেলার বিদ্যুতের চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা গেলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সোলার এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মো. খান সুবায়েল বিন রফিক বলেন, দিনের বেলার বিদ্যুতের চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা গেলে বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। তবে এ চাহিদা পূরণেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। সে ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে অন্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাকআপ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে এসেছে ৫৮৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, ওই সময় মোট উৎপাদনের ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। সূর্যের আলো থাকলেই কেবল এ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা গেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা সম্ভব হতো। বাংলাদেশে এখনো এ ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সৌরবিদ্যুৎ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। তবে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির সংকট বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূর্য যখন মধ্যগগনে থাকে, তখন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হয়। সকাল ও বিকালে উৎপাদন তুলনামূলক কম থাকে। বৃহস্পতিবারের উৎপাদন চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। সকাল ৭টা থেকে অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। ওই সময় দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া গেছে ৫৮ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদনের ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, দুপুর ২টায় দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ এসেছে অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে। ওই সময় মোট উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৮৬৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া গেছে ৩৯৮ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টার পর আর সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
এদিকে আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে আরও ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এর অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এর মধ্যে শুধু ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী বছর গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সৌরবিদ্যুতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ উদ্যোগ সফল হলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত আট মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ অন্যতম কার্যকর পথ।
সরকারের আশা, নতুন সক্ষমতা যুক্ত হলে দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময় প্রচলিত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, পিডিবি নিজেদের অফিসের ছাদেও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসাচ্ছে। সেখান থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় মেগাওয়াটের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন হয়েছে। সেখানে কাজ শুরু করা হচ্ছে। সরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এখন সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে। আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে সন্ধ্যা ও রাতের চাহিদার সময় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎই হবে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎস। তবে তা একদিনে সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে এ পথে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজের গতি এখনো অনেক ধীর, যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সম্প্রতি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যা স্বাগত জানান তিনি।
দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, এতে খরচ বাড়ছে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ অন্যান্য উৎসের তুলনায় কম। দিনের বেলার বিদ্যুতের চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা গেলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সোলার এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মো. খান সুবায়েল বিন রফিক বলেন, দিনের বেলার বিদ্যুতের চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা গেলে বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। তবে এ চাহিদা পূরণেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। সে ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে অন্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাকআপ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন