ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর বহুল ব্যবহৃত নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য ৯০টি হেলিকপ্টার-সংযুক্ত উৎক্ষেপক ইরানকে সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতার নতুন একটি দিক সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
এর আগে প্রকাশ্যে না আসা এই চুক্তি ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ার সহায়তার আরও প্রমাণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা দেওয়ার একটি গোপন কর্মসূচি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনসংক্রান্ত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের একটি সূচিতে ৯০টি এপিইউ-এল উৎক্ষেপক রপ্তানির আদেশের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ক্রেতার পরিচয় হিসেবে ‘কে-১০’ উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইরানকে বোঝাতে এ সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে।
তবে নথিপত্রে এসব উৎক্ষেপক শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত নির্ভুল নিশানার অস্ত্র
উৎক্ষেপকগুলো রাশিয়ার হালকা বহুমুখী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বহনের জন্য তৈরি। এটি এলএমইউআর বা ইজদেলিয়ে-৩০৫ নামে পরিচিত। নির্ভুল নিশানার এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।
২০২২ সালে রুশ সামরিক বাহিনীতে ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্ত হয়। এরপর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এটি। উড্ডয়নের সময় একজন অপারেটর ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন বা নিশানা সমন্বয় করা সম্ভব হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইকুইপমেন্ট গাইড অনুযায়ী, এপিইউ-এল উৎক্ষেপকগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি। প্রতিটি উৎক্ষেপকে দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায়।
ইতোমধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে এমআই-২৮ হেলিকপ্টার সংগ্রহ করেছে ইরান। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এসব হেলিকপ্টার সরবরাহের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ছবিতে তেহরানের একটি বিমান চলাচল কেন্দ্রে এমআই-২৮ হেলিকপ্টার দেখা যায় বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
রাশিয়ার উৎপাদনসংক্রান্ত নথিগুলো ডালাস অ্যানালিটিকস নামের ইউক্রেনভিত্তিক একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সংবাদমাধ্যমটির হাতে তুলে দিয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের মে মাসে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলের একটি চিঠিতে অন্য একটি প্রতিরক্ষা ব্যুরোকে সতর্ক করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, উৎক্ষেপকের যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিলম্ব হলে কয়েকটি চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও ইরানকে সহায়তা রাশিয়ার
সর্বশেষ এই প্রতিবেদনটি এমন এক অনুসন্ধানের পর সামনে এলো, যেখানে গত সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, সি৪৩০এল সাংকেতিক নামের একটি কর্মসূচির আওতায় ইরানকে গোপনে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও সামরিক পেটেন্ট পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২৩ সালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। চলতি বছর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালেও এটি অব্যাহত ছিল।
এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি করা। এ প্রযুক্তির সাহায্যে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে পারে। ফলে মার্কিন ও মিত্রদেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে আসতে পারে।
ইরানবিষয়ক সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘ইরানিদের জন্য এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশলগত অস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ করবে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’
ইরান ইতোমধ্যে এই প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীতে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়েছে, এমন প্রমাণ পায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
রুশ প্রকৌশলীরা একাধিকবার ইরান সফর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা ইরানের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং জ্বালানি ব্যবস্থা, দহনপ্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা, বায়ুপ্রবেশ ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনের নকশা নিয়ে পরামর্শ দেন।
কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ গত সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এটি রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘটনা, যা ইরান কয়েক দশক ধরে অর্জন করতে চেয়েছে।’
ইরান যুদ্ধের মধ্যে আরও গভীর হচ্ছে সামরিক সহযোগিতা
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহের চুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি তেহরানের প্রতি মস্কোর সহযোগিতার দুটি ভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত জ্ঞান হস্তান্তর।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহেও সম্মত হয়েছে রাশিয়া।
তবে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক একমুখী নয়। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ অ্যাটাক ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান। পাশাপাশি রাশিয়ায় এসব ড্রোনের নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করেছে তেহরান।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সময় মস্কো ও তেহরানের সামরিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়া ‘খুব সামান্য, কিংবা কিছুই করছে না’।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক নিকোল গ্রাজেউস্কি এফটিকে বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত দেয়, নিজেদের যুদ্ধকালীন চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ইরানকে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। একই সঙ্গে অতীতের তুলনায় পশ্চিমা আপত্তিকে তারা অনেক কম গুরুত্ব দিচ্ছে।’
মস্কোর সহযোগিতারও রয়েছে সীমাবদ্ধতা
সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও চলমান সংঘাতে রাশিয়ার ভূমিকা অতিরঞ্জিত না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের ইউরেশিয়া কর্মসূচির পরিচালক হান্না নোতে বলেন, ইরানকে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে মস্কো।
তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এই যুদ্ধে নিজেদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে রাশিয়ার এখনো কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই ইরানকে রাশিয়ার দেওয়া সহায়তা সামরিক অভিযানে কার্যকর ভূমিকা রাখলেও যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো নয়।’
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
এর আগে প্রকাশ্যে না আসা এই চুক্তি ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ার সহায়তার আরও প্রমাণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা দেওয়ার একটি গোপন কর্মসূচি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনসংক্রান্ত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের একটি সূচিতে ৯০টি এপিইউ-এল উৎক্ষেপক রপ্তানির আদেশের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ক্রেতার পরিচয় হিসেবে ‘কে-১০’ উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইরানকে বোঝাতে এ সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে।
তবে নথিপত্রে এসব উৎক্ষেপক শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত নির্ভুল নিশানার অস্ত্র
উৎক্ষেপকগুলো রাশিয়ার হালকা বহুমুখী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বহনের জন্য তৈরি। এটি এলএমইউআর বা ইজদেলিয়ে-৩০৫ নামে পরিচিত। নির্ভুল নিশানার এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।
২০২২ সালে রুশ সামরিক বাহিনীতে ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্ত হয়। এরপর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এটি। উড্ডয়নের সময় একজন অপারেটর ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন বা নিশানা সমন্বয় করা সম্ভব হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইকুইপমেন্ট গাইড অনুযায়ী, এপিইউ-এল উৎক্ষেপকগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি। প্রতিটি উৎক্ষেপকে দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায়।
ইতোমধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে এমআই-২৮ হেলিকপ্টার সংগ্রহ করেছে ইরান। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এসব হেলিকপ্টার সরবরাহের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ছবিতে তেহরানের একটি বিমান চলাচল কেন্দ্রে এমআই-২৮ হেলিকপ্টার দেখা যায় বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
রাশিয়ার উৎপাদনসংক্রান্ত নথিগুলো ডালাস অ্যানালিটিকস নামের ইউক্রেনভিত্তিক একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সংবাদমাধ্যমটির হাতে তুলে দিয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের মে মাসে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলের একটি চিঠিতে অন্য একটি প্রতিরক্ষা ব্যুরোকে সতর্ক করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, উৎক্ষেপকের যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিলম্ব হলে কয়েকটি চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও ইরানকে সহায়তা রাশিয়ার
সর্বশেষ এই প্রতিবেদনটি এমন এক অনুসন্ধানের পর সামনে এলো, যেখানে গত সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, সি৪৩০এল সাংকেতিক নামের একটি কর্মসূচির আওতায় ইরানকে গোপনে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও সামরিক পেটেন্ট পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২৩ সালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। চলতি বছর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালেও এটি অব্যাহত ছিল।
এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি করা। এ প্রযুক্তির সাহায্যে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে পারে। ফলে মার্কিন ও মিত্রদেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে আসতে পারে।
ইরানবিষয়ক সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘ইরানিদের জন্য এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশলগত অস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ করবে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’
ইরান ইতোমধ্যে এই প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীতে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়েছে, এমন প্রমাণ পায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
রুশ প্রকৌশলীরা একাধিকবার ইরান সফর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা ইরানের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং জ্বালানি ব্যবস্থা, দহনপ্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা, বায়ুপ্রবেশ ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনের নকশা নিয়ে পরামর্শ দেন।
কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ গত সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এটি রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘটনা, যা ইরান কয়েক দশক ধরে অর্জন করতে চেয়েছে।’
ইরান যুদ্ধের মধ্যে আরও গভীর হচ্ছে সামরিক সহযোগিতা
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহের চুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি তেহরানের প্রতি মস্কোর সহযোগিতার দুটি ভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত জ্ঞান হস্তান্তর।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহেও সম্মত হয়েছে রাশিয়া।
তবে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক একমুখী নয়। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ অ্যাটাক ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান। পাশাপাশি রাশিয়ায় এসব ড্রোনের নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করেছে তেহরান।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সময় মস্কো ও তেহরানের সামরিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়া ‘খুব সামান্য, কিংবা কিছুই করছে না’।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক নিকোল গ্রাজেউস্কি এফটিকে বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত দেয়, নিজেদের যুদ্ধকালীন চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ইরানকে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। একই সঙ্গে অতীতের তুলনায় পশ্চিমা আপত্তিকে তারা অনেক কম গুরুত্ব দিচ্ছে।’
মস্কোর সহযোগিতারও রয়েছে সীমাবদ্ধতা
সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও চলমান সংঘাতে রাশিয়ার ভূমিকা অতিরঞ্জিত না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের ইউরেশিয়া কর্মসূচির পরিচালক হান্না নোতে বলেন, ইরানকে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে মস্কো।
তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এই যুদ্ধে নিজেদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে রাশিয়ার এখনো কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই ইরানকে রাশিয়ার দেওয়া সহায়তা সামরিক অভিযানে কার্যকর ভূমিকা রাখলেও যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো নয়।’
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে