স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত হওয়ার ছয় দিনের মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে।
একই সঙ্গে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আগাম সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি। এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুয়েন্তে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটির দীর্ঘ অধিবেশনে দুর্ঘটনা নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর এ ঘোষণা দেন তিনি। পুয়েন্তে বলেন, স্পেনের মতো একটি দেশের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে এক বছরের কম সময়ে এ ধরনের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ঠিক কবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন, তা উল্লেখ করেননি।
গত ২৮ অক্টোবর দেশটির মধ্যাঞ্চলের উরদা এলাকায় দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ৬৯ জন। এ ঘটনায় আহত হন আরও শতাধিক মানুষ। রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি উচ্চগতির ট্রেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এটি চলতি বছরে স্পেনের মাদ্রিদ-সেভিল রেলপথে দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্য একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন। পরপর দুটি দুর্ঘটনায় দেশটির উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর থেকেই পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল বিরোধী দলগুলো। রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) ও উগ্র ডানপন্থী ভক্স পার্টির পাশাপাশি সরকারের কয়েকজন মিত্রও তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দুর্ঘটনার দায় শুধু নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে মন্ত্রী ও সরকার নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে সংসদে রেল নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন পুয়েন্তে। এর মধ্যে রয়েছে রেল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সংকেত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ইউরোপীয় মানের রেল নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্রুত চালু করা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। সানচেজের ভাষ্য, পুয়েন্তে সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন, সংসদে জবাব দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের ঠিক আগে একের পর এক প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা এবং পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। দেশটির রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এখন স্পেনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
একই সঙ্গে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আগাম সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি। এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুয়েন্তে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটির দীর্ঘ অধিবেশনে দুর্ঘটনা নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর এ ঘোষণা দেন তিনি। পুয়েন্তে বলেন, স্পেনের মতো একটি দেশের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে এক বছরের কম সময়ে এ ধরনের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ঠিক কবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন, তা উল্লেখ করেননি।
গত ২৮ অক্টোবর দেশটির মধ্যাঞ্চলের উরদা এলাকায় দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ৬৯ জন। এ ঘটনায় আহত হন আরও শতাধিক মানুষ। রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি উচ্চগতির ট্রেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এটি চলতি বছরে স্পেনের মাদ্রিদ-সেভিল রেলপথে দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্য একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন। পরপর দুটি দুর্ঘটনায় দেশটির উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর থেকেই পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল বিরোধী দলগুলো। রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) ও উগ্র ডানপন্থী ভক্স পার্টির পাশাপাশি সরকারের কয়েকজন মিত্রও তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দুর্ঘটনার দায় শুধু নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে মন্ত্রী ও সরকার নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে সংসদে রেল নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন পুয়েন্তে। এর মধ্যে রয়েছে রেল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সংকেত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ইউরোপীয় মানের রেল নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্রুত চালু করা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। সানচেজের ভাষ্য, পুয়েন্তে সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন, সংসদে জবাব দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের ঠিক আগে একের পর এক প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা এবং পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। দেশটির রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এখন স্পেনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে