ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণে আজ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ১২:০২:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ১২:০২:৫৪ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের শাসনামলের মাঝপথে আজ ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন ভোটারদের সমর্থন ও তাঁর নেতৃত্বের জনপ্রিয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে এই ভোট।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন, অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং বিভিন্ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনেও ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকরা। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের গতিপথ।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুটি কক্ষ। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনে নির্বাচন হয়। অন্যদিকে সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পরপর সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বলেই একে মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়।

এবার সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি বিশেষ নির্বাচন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সাধারণত ৫১টি আসন প্রয়োজন। তবে দুই দলের আসন সমান হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোটে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলের হাতে থাকলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের পথ তুলনামূলক সহজ হয়।

বিপরীতে বিরোধী দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত আইন, বাজেট ও বিভিন্ন নীতির ওপর বাধা তৈরি করতে পারে। অতীতের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে প্রায়ই আসন হারাতে দেখা গেছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টড বেল্টের তথ্যের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬ দশমিক ৫টি আসন হারিয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অর্থনীতি, নিত্যপণ্যের দাম, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোটাররা ভোট দেবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দিতে হলে সাধারণত নাগরিকদের আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে হয়। ভোটার হওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব, নির্বাচনের দিন অন্তত ১৮ বছর বয়স এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অঙ্গরাজ্যভেদে নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে।

ভোটাররা সাধারণত তিনভাবে ভোট দিতে পারেন—নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে, আগাম ভোটের মাধ্যমে এবং ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে। আগাম ভোটের ক্ষেত্রে নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের আগেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে। আর ডাকযোগে ভোট দিতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ করে ব্যালট সংগ্রহ ও জমা দিতে হয়।

নির্বাচনের দিন ভোটাররা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের পর ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। কোথাও কাগজের ব্যালট, আবার কোথাও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়।

নির্বাচন পরিচালনায় অঙ্গরাজ্যের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কোনো একক কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই। দেশটির নির্বাচনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীভূত। ফেডারেল সরকার নির্বাচনের জন্য আইন ও সাধারণ মানদণ্ড নির্ধারণ করলেও ভোটার নিবন্ধন, ভোট গ্রহণ, গণনা এবং ফল প্রত্যয়নের বড় অংশ পরিচালনা করে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসন।

অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তা এবং কাউন্টি ও শহর পর্যায়ের প্রশাসন ভোটার তালিকা প্রস্তুত, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ব্যালট বিতরণ ও ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করে। এ কারণে এক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে অন্য অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি নিয়মে পার্থক্য দেখা যায়।

ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হলেও নির্বাচনের রাতের ফল চূড়ান্ত নয়। ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট, আগাম ভোট এবং শর্তসাপেক্ষ ব্যালটের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর ফল পরিবর্তিত হতে পারে।

ভোট গণনার পর নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটের সংখ্যা ও ব্যালটের বৈধতা যাচাই করেন। প্রয়োজন হলে পুনর্গণনা ও নিরীক্ষাও করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রত্যয়ন করে।

কংগ্রেসের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে শুধু কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচন নয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ পদে ভোট হয়। এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, মেয়র, কাউন্টি কমিশনার, শেরিফ ও স্কুল বোর্ডের সদস্যসহ বিভিন্ন স্থানীয় পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও সামাজিক নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর গণভোট হতে পারে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের আসন ভাগাভাগির লড়াই নয়; এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, তাঁর প্রশাসনের নীতির প্রতি জনগণের সমর্থন এবং আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :