গলার কাঁটা: ​ঝুলে পড়া লোহার সেতু বাঁশ দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা

আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৪:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৪:৫৭:৩১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাটিকাটা কুড়ির খালের ওপর নির্মিত লোহা ও পিলারের সেতুটি এখন স্থানীয় মানুষের চরম গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। একসময়ের স্বস্তির এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পড়ে আছে। সেতুর ভাঙা অংশে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে কোনোমতো চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হলেও যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সেতু পারাপার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পাটাতন বহু আগেই উঠে গেছে। দুই পাশের রেলিংয়ের বড় অংশই উধাও। পিলারের মাটি ধসে যাওয়ায় সেতুর অন্তত তিনটি স্থানে মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে বাঁশ দিয়ে খুঁটি দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মোটরসাইকেল বা ভারী যান উঠলেই সেতুটি প্রচণ্ড শব্দ করে কেঁপে ওঠে এবং নড়ে ওঠে। ভয়ে ভয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা পারাপার হন। ভাঙা পাটাতনে আঘাত পেয়ে ইতিমধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়ে শয্যাশায়ী হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে খালের ওপর দুটি পিলার স্থাপন করে লোহার পাটাতন দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের লীলা বাজার-মাটিকাটা কুড়ির খাল এলাকার এই সেতু দিয়ে বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন ও পর্যটন এলাকায় যাতায়াত করেন আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ। এ ছাড়া মাটিকাটা রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, প্রতিভা কিন্ডারগার্টেন স্কুল, মাটিকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী এম এজাহের উচ্চবিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ছফুর উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, 'সেতুটিতে উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে, কখন জানি ভেঙে পড়ে। কিন্তু বাধ্য হয়ে চোখ কান খোলা রেখে আস্তে আস্তে এই সেতু পার হয়ে বাজারে বা মসজিদে যাই।'

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আয়দর আলী জানান, সম্প্রতি সেতু পার হতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে এক ব্যক্তি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিভাবকদের কণ্ঠেও ঝরে পড়েছে শঙ্কা। তাঁরা বলেন, 'ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠালেই দুশ্চিন্তায় থাকি। কখন যে বড় বিপদ ঘটে যায়, তা বলা মুশকিল। দ্রুত সেতুটি মেরামত বা নতুন একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।'

দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী বলেন, 'সেতুটির বর্তমান পরিস্থিতি মারাত্মক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে আপাতত সেতুটি মেরামত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওই স্থানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, 'ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দ্রুত সংস্কার ও নিরাপদ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।'

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :