বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থানীয় উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্লিন এনার্জি খাতের একটি প্রতিনিধিদল।
চার দিনের সফরে দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, রুফটপ সোলার ও সৌর সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।
সংগঠনটি জানায়, ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে বিএসআরইএ। সহযোগিতায় ছিল রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিল এশিয়া-প্যাসিফিক (আরইসিএপি), স্মার্ট এনার্জি কাউন্সিল ও অস্ট্রেড।
সফরের প্রথম দিন ২৪ অক্টোবর অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ ও এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরদিন ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশের ক্লিন এনার্জি বাজার নিয়ে ব্রিফিং, সেমিনার ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এবিসিসিআই) আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক সেমিনারে অংশ নেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের সঙ্গেও তাদের পৃথক বৈঠক হয়।
সফরের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীতে অংশ নেন অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিরা। একই দিন বিএসআরইএর উদ্যোগে ‘ডায়ালগ উইথ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্লিন এনার্জি ডেলিগেশন’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিএসআরইএর মতে, বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা স্থাপন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, সৌর সেচ এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারি উৎপাদন এবং সংযোজনশিল্পেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয় এবং বিদ্যুৎবাজার পরিচালনায় অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
সংগঠনটির মতে, দুই দেশের কোম্পানির মধ্যে যৌথ উদ্যোগ গড়ে উঠলে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে নীতিগত ও আর্থিক বাধা দূর করা জরুরি বলে মনে করে বিএসআরইএ। সংগঠনটি বলেছে, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ নীতিমালা, কার্যকর গ্রিড সংযোগ এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
বিএসআরইএর মতে, উচ্চ সুদের হার, প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সীমাবদ্ধতা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বাধা। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, জলবায়ু তহবিল এবং দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরো বলেছে, অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদলের এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কোম্পানি, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব যোগাযোগকে বাস্তব অংশীদারত্বে রূপ দিতে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
চার দিনের সফরে দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, রুফটপ সোলার ও সৌর সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।
সংগঠনটি জানায়, ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে বিএসআরইএ। সহযোগিতায় ছিল রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিল এশিয়া-প্যাসিফিক (আরইসিএপি), স্মার্ট এনার্জি কাউন্সিল ও অস্ট্রেড।
সফরের প্রথম দিন ২৪ অক্টোবর অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ ও এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরদিন ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশের ক্লিন এনার্জি বাজার নিয়ে ব্রিফিং, সেমিনার ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এবিসিসিআই) আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক সেমিনারে অংশ নেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের সঙ্গেও তাদের পৃথক বৈঠক হয়।
সফরের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীতে অংশ নেন অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিরা। একই দিন বিএসআরইএর উদ্যোগে ‘ডায়ালগ উইথ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্লিন এনার্জি ডেলিগেশন’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিএসআরইএর মতে, বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা স্থাপন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, সৌর সেচ এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারি উৎপাদন এবং সংযোজনশিল্পেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয় এবং বিদ্যুৎবাজার পরিচালনায় অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
সংগঠনটির মতে, দুই দেশের কোম্পানির মধ্যে যৌথ উদ্যোগ গড়ে উঠলে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে নীতিগত ও আর্থিক বাধা দূর করা জরুরি বলে মনে করে বিএসআরইএ। সংগঠনটি বলেছে, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ নীতিমালা, কার্যকর গ্রিড সংযোগ এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
বিএসআরইএর মতে, উচ্চ সুদের হার, প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সীমাবদ্ধতা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বাধা। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, জলবায়ু তহবিল এবং দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরো বলেছে, অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদলের এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কোম্পানি, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব যোগাযোগকে বাস্তব অংশীদারত্বে রূপ দিতে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে