মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মালচিং পদ্ধতিতে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। সোমবার উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের একটি টমেটো ক্ষেতে
সাত বিঘা জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেন নিজাম উদ্দিন। মালচিং পদ্ধতির এ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন ছয় লাখ টাকার। ক্ষেতে এখনো রয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকার টমেটো।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তিলকপুর গ্রামের এই কৃষকের মতো উপজেলার অনেকেই এখন এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার টমেটো ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে টমেটো।
কোথাও গাছে কাঁচা টমেটো, কোথাও পাকতে শুরু করায় তাতে দেখা দিয়ে লাল আভা। জমিতে সারি সারি শয্যায় বিছানো মালচিং পেপার।
কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অনেক কৃষক এরই মধ্যে বিনিয়োগের টাকা তুলে লাভের মুখ দেখছেন। মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের কৃষক সাদেক হোসেন জানান, ছয় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে সাত লাখ টাকা। গতবছর তিন বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন।
একইভাবে আলীনগর ইউনিয়নের রানীবাজার গ্রামের মখলিস মিয়া, মাধবপুর ইউনিয়নের কোনোগাঁও গ্রামের করিম মিয়া এবং ধলই চা-বাগান এলাকার গোপাল রবিদাস ও কানাই রবিদাসও আগাম টমেটো চাষ করেছেন।
এসব কৃষকের সম্মিলিত আবাদ প্রায় ২০ বিঘা জমিতে। তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই এলাকার আরো বেশ কয়েকজন কৃষক টমেটো চাষে যুক্ত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকদের এ আগ্রহের পেছনে রয়েছে মালচিং পদ্ধতির ব্যবহার ও আগাম ফসল বাজারজাত করার সুযোগ। এ পদ্ধতিতে চারা রোপণ করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও পরিচর্যা সহজ হয়।
বর্তমানে প্রতিকেজি টমেটোর পাইকারি দর ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বলে জানান কৃষকরা।
কৃষক সাদেক হোসেন জানান, গতবছর তিন বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার জমি বাড়িয়েছেন তিনি। তাছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে পরিচর্যা সহজ এবং আগাম টমেটো বাজারে তুলতে পারায় ভালো দাম পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
বর্তমানে সাদেকের ক্ষেতে নিয়মিত ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল ৬০ হেক্টর। এক বছরে আবাদ বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৪৯০ জন কৃষক গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বারি টমেটো-৮ ও মঙ্গলরাজা জাতের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু জাতও চাষ হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, আগাম টমেটো চাষে কৃষক তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ার সুযোগ পান। মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছার উপদ্রব কমে। ফলে গাছের গোড়া ও শিকড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে এ পদ্ধতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো ও লাভবান করতে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।'
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
সাত বিঘা জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেন নিজাম উদ্দিন। মালচিং পদ্ধতির এ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন ছয় লাখ টাকার। ক্ষেতে এখনো রয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকার টমেটো।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তিলকপুর গ্রামের এই কৃষকের মতো উপজেলার অনেকেই এখন এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার টমেটো ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে টমেটো।
কোথাও গাছে কাঁচা টমেটো, কোথাও পাকতে শুরু করায় তাতে দেখা দিয়ে লাল আভা। জমিতে সারি সারি শয্যায় বিছানো মালচিং পেপার।
কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অনেক কৃষক এরই মধ্যে বিনিয়োগের টাকা তুলে লাভের মুখ দেখছেন। মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের কৃষক সাদেক হোসেন জানান, ছয় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে সাত লাখ টাকা। গতবছর তিন বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন।
একইভাবে আলীনগর ইউনিয়নের রানীবাজার গ্রামের মখলিস মিয়া, মাধবপুর ইউনিয়নের কোনোগাঁও গ্রামের করিম মিয়া এবং ধলই চা-বাগান এলাকার গোপাল রবিদাস ও কানাই রবিদাসও আগাম টমেটো চাষ করেছেন।
এসব কৃষকের সম্মিলিত আবাদ প্রায় ২০ বিঘা জমিতে। তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই এলাকার আরো বেশ কয়েকজন কৃষক টমেটো চাষে যুক্ত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকদের এ আগ্রহের পেছনে রয়েছে মালচিং পদ্ধতির ব্যবহার ও আগাম ফসল বাজারজাত করার সুযোগ। এ পদ্ধতিতে চারা রোপণ করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও পরিচর্যা সহজ হয়।
বর্তমানে প্রতিকেজি টমেটোর পাইকারি দর ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বলে জানান কৃষকরা।
কৃষক সাদেক হোসেন জানান, গতবছর তিন বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার জমি বাড়িয়েছেন তিনি। তাছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে পরিচর্যা সহজ এবং আগাম টমেটো বাজারে তুলতে পারায় ভালো দাম পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
বর্তমানে সাদেকের ক্ষেতে নিয়মিত ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল ৬০ হেক্টর। এক বছরে আবাদ বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৪৯০ জন কৃষক গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বারি টমেটো-৮ ও মঙ্গলরাজা জাতের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু জাতও চাষ হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, আগাম টমেটো চাষে কৃষক তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ার সুযোগ পান। মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছার উপদ্রব কমে। ফলে গাছের গোড়া ও শিকড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে এ পদ্ধতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো ও লাভবান করতে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।'
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন