ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একাংশ। ছবি: এএফপি
ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) তেল আবিবের ‘হোস্টেজেস স্কয়ার’ নামে পরিচিত একটি উন্মুক্ত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।
গাজায় আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ইসরাইলি সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, ‘নির্বাচনের তিন দিন আগে আমরা তিন বছরের সংগ্রামের সমাপনী কর্মসূচি পালন করব। সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে এ সংগ্রাম।’
ইসরাইলের অন্যান্য স্থানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
বিক্ষোভে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির গাদি আইজেনকোট, যিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্য-ডানপন্থি শিবিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবে বিক্ষোভস্থলে আইজেনকোটকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন সমর্থকরা। তারা বলেন, ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।’ ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন।
ইসরাইলি নাগরিক ও আইনজীবী ড্যান আদিন এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘রাবিন স্কয়ার থেকে হোস্টেজেস স্কয়ার পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটসের মিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে। পরিবর্তন, আশা ও বিপ্লবের জন্য এই সমাবেশ। কী অসাধারণ উদ্দীপনা! এবার পুরোপুরি আমাদের সময়।’
মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সঙ্গে আইজেনকোটের জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। তবে কোনো জোটই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।
নির্বাচনটি ইরানে ইসরাইলের নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে তুলনামূলক কম আগ্রহী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অন্যান্য অধিকাংশ পররাষ্ট্রনীতি ইস্যুতে ইসরাইলের প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাও রয়েছে।
বিক্ষোভের আগে সরকারপন্থি ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাবেশে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছিল অক্টোবর কাউন্সিল।
এক্সে দেওয়া পোস্টে সংগঠনটি জানায়, ‘জোট সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ আজ রাতের সমাবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আমরা পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছি।’
৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই অক্টোবর কাউন্সিলের লক্ষ্য।
তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকার একটি ‘রাজনৈতিক’ তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ দেবে সরকার এবং বাকি সদস্যদের নিয়োগ দেবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা।
বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া কোনো তদন্ত কমিশনে তারা অংশ নেবেন না। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) তেল আবিবের ‘হোস্টেজেস স্কয়ার’ নামে পরিচিত একটি উন্মুক্ত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।
গাজায় আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ইসরাইলি সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, ‘নির্বাচনের তিন দিন আগে আমরা তিন বছরের সংগ্রামের সমাপনী কর্মসূচি পালন করব। সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে এ সংগ্রাম।’
ইসরাইলের অন্যান্য স্থানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
বিক্ষোভে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির গাদি আইজেনকোট, যিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্য-ডানপন্থি শিবিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবে বিক্ষোভস্থলে আইজেনকোটকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন সমর্থকরা। তারা বলেন, ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।’ ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন।
ইসরাইলি নাগরিক ও আইনজীবী ড্যান আদিন এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘রাবিন স্কয়ার থেকে হোস্টেজেস স্কয়ার পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটসের মিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে। পরিবর্তন, আশা ও বিপ্লবের জন্য এই সমাবেশ। কী অসাধারণ উদ্দীপনা! এবার পুরোপুরি আমাদের সময়।’
মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সঙ্গে আইজেনকোটের জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। তবে কোনো জোটই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।
নির্বাচনটি ইরানে ইসরাইলের নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে তুলনামূলক কম আগ্রহী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অন্যান্য অধিকাংশ পররাষ্ট্রনীতি ইস্যুতে ইসরাইলের প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাও রয়েছে।
বিক্ষোভের আগে সরকারপন্থি ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাবেশে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছিল অক্টোবর কাউন্সিল।
এক্সে দেওয়া পোস্টে সংগঠনটি জানায়, ‘জোট সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ আজ রাতের সমাবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আমরা পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছি।’
৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই অক্টোবর কাউন্সিলের লক্ষ্য।
তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকার একটি ‘রাজনৈতিক’ তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ দেবে সরকার এবং বাকি সদস্যদের নিয়োগ দেবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা।
বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া কোনো তদন্ত কমিশনে তারা অংশ নেবেন না। সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন