তারুণ্য ধরে রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০১:৪৪:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০১:৪৪:৪১ অপরাহ্ন
ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে শুধু প্রসাধনী ব্যবহারই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং গাঁজানো খাবার ত্বকের আর্দ্রতা, নমনীয়তা ও সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এসব খাবারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন নামের প্রোটিনের পরিমাণ কমতে থাকে। কোলাজেন ত্বকের গঠন ধরে রাখে। এর ঘাটতি হলে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বায়ুদূষণ, সূর্যের আলো ও তাপমাত্রার পরিবর্তনও ত্বকের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

ত্বক সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখা যেতে পারে, সেগুলো হলো:

রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি

গাজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ও আমের মতো খাবারে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান দূষণ ও সূর্যের আলোর কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে।

খাদ্য রসায়নের অধ্যাপক ভলকার বোমের মতে, ক্যারোটিনয়েড শরীরের চর্বিযুক্ত টিস্যুতে জমা থাকে এবং অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। তবে এসব খাবার সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়।

গাজর ও টমেটোর সঙ্গে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল খেলে শরীরের পক্ষে ক্যারোটিনয়েড শোষণ করা সহজ হতে পারে। এ ছাড়া বিটা-ক্যারোটিন থেকে শরীরে ভিটামিন এ তৈরি হয়, যা ত্বকের কোষের বৃদ্ধি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

আমেও রয়েছে উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজ-পরবর্তী নারীরা ১৬ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে চার দিন ৮৫ গ্রাম করে আম খাওয়ার পর তাদের বিদ্যমান বলিরেখার আকার কমেছে এবং নতুন বলিরেখার সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।

তবে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ গ্রাম আম খাওয়ার ক্ষেত্রে উল্টো ফল দেখা যায়। গবেষকদের ধারণা, আমের প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ এর একটি কারণ হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আম ও লেবুজাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা ও কালচে দাগ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বাদাম, বীজ ও সামুদ্রিক মাছ

ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর চর্বিও প্রয়োজন। কাঠবাদাম, আখরোট, হ্যাজেলনাট ও বিভিন্ন ধরনের বীজে রয়েছে ভিটামিন ই, যা ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

একটি ছোট নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ সপ্তাহ ধরে নাশতা হিসেবে কাঠবাদাম খাওয়া ব্যক্তিদের ত্বকে অন্য ধরনের নাশতা খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় দৃশ্যমান বলিরেখা কম ছিল।

বাদামে থাকা ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের সুরক্ষাবেষ্টনী শক্তিশালী রাখতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, সামুদ্রিক মাছ ও শৈবালে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকারেলের মতো তৈলাক্ত মাছে এই উপাদান রয়েছে। ছোট পরিসরের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ সূর্যের আলোর প্রতি ত্বকের সংবেদনশীলতা কমাতে পারে। এ ছাড়া তৈলাক্ত মাছ প্রদাহ কমাতে এবং ত্বকের বিদ্যমান কোলাজেন সংরক্ষণে সহায়তা করতে পারে।

অন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ত্বকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকেরা এই সম্পর্ককে ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’ বলে থাকেন।

বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ খাবার খেলে অন্ত্রে থাকা উপকারী অণুজীবগুলো উপকৃত হয়। এসব অণুজীব থেকে তৈরি কিছু যৌগ প্রদাহ কমাতে ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। সুস্থ অন্ত্রের অণুজীব ত্বকের রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

এ জন্য খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য, ভেষজ উপাদান ও মসলা রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি দই, কিমচি, সাওয়ারক্রাউট ও কম্বুচার মতো গাঁজানো খাবার অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের জন্য ভালো। বৈচিত্র্যময় উদ্ভিজ্জ খাবার খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

তারুণ্য ধরে রাখতে যা মনে রাখবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে ত্বকে দৃশ্যমান প্রভাব পেতে সময় লাগে। পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকর প্রভাব পরিমাপ করতে সাধারণত আট থেকে ১০ সপ্তাহ লাগতে পারে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :