​আগামী ১৫ বছরে চাকরি পাবে না ৮০ কোটি তরুণ: বিশ্বব্যাংক প্রধান

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৭:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৭:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন
বিশ্বজুড়ে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ১২০ কোটি তরুণ-তরুণী কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। তবে এ সময়ে সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ থাকবে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে প্রায় ৮০ কোটি তরুণের কর্মসংস্থান হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সভাপতি অজয় বঙ্গা।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দেওয়া মূল বক্তব্যে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের এই চিত্র তুলে ধরেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

অজয় বঙ্গা বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেন, এটি শুধু কোনো পরিসংখ্যান নয়। এই সংখ্যার পেছনে রয়েছেন ডিগ্রি অর্জন করেও চাকরি না পাওয়া হতাশ তরুণী কিংবা কাজের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুতের অভাবে বেকার বসে থাকা যুবক। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মেধা ও সক্ষমতার যথাযথ মূল্যায়ন করা না হলে সংকটটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক প্রধান উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় যেসব অর্থনৈতিক চাপ ও চ্যালেঞ্জ ছিল, সেগুলো এখনো কমেনি। বরং ভূরাজনৈতিক সংঘাত, ঋণের উচ্চ বোঝা, সরকারি তহবিলের সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি ও সারের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের বাড়তি দাম বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক তার কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৃহৎ পরিসরে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাকে এখন প্রধান কৌশল হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে গত তিন বছরে বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত অর্জনের কথা তুলে ধরেন অজয় বঙ্গা। তিনি জানান, ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের গতি বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাসে আনা হয়েছে। এ ছাড়া আগের ১৫৩টি জটিল মূল্যায়নের পরিবর্তে ২২টি প্রভাবভিত্তিক সূচক চালু করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মূলধন কাঠামো পুনর্গঠনের ফলে আগামী এক দশকে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আরও ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বেড়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে অজয় বঙ্গা বলেন, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ, সুনির্দিষ্ট ও ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। গত এক বছরে বিশ্বব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে ১১২০ কোটি ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগৃহীত হয়েছে, যা তিন বছর আগের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সংগৃহীত অর্থ ও নিজস্ব তহবিল মিলিয়ে গত বছর ২৩০০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর বড় অংশ অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পর্যটনের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

উন্নয়নশীল ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলোতে প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাব্যবস্থা অনেক দেশের নাগালের বাইরে থাকলেও সাধারণ প্রয়োগভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রান্তিক মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, শিক্ষকের পাঠদান উন্নত করা কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বড় বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরিতে বিদ্যুৎ, ডিজিটাল সংযোগ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জরুরি সেবা সম্প্রসারণে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে অজয় বঙ্গা বলেন, ‘মিশন ৩০০’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ কোটি মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ৪০ কোটি মানুষকে আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে ২০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে কেবল জীবনধারণের জন্য চাষাবাদ থেকে উদ্বৃত্ত উৎপাদনকারী কৃষকে পরিণত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৯৪৪ সালের ঐতিহাসিক ব্রেটন উডস সম্মেলনের কথা স্মরণ করে অজয় বঙ্গা বলেন, বিশ্বযুদ্ধ ও মহামন্দার পরিস্থিতিতেও তৎকালীন বিশ্বনেতারা বুঝতে পেরেছিলেন, কোনো দেশের সমৃদ্ধি শুধু তার নিজের সম্পদ নয়; এর সুফল প্রতিবেশী মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে। অতীতের সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাংক বর্তমানে সরকারি তহবিল, বেসরকারি পুঁজি, দাতব্য সংস্থা ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করছে। প্রতিটি দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :