ঘরের দরজা খুললেই যে প্রিয় মুখটি এতদিন খুঁজতেন আলী হোসেন, দীর্ঘ তিন মাস পর অবশেষে সেই ব্যাকুল অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। স্ত্রী আলেয়া বেগম কোথায় আছেন, কেমন আছেন - এমন নানা দুশ্চিন্তায় প্রতিটি দিন কেটেছে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় ঘুরেও যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার, ঠিক তখনই অলৌকিকের মতো আলো দেখাল ফেসবুকের একটি ভিডিও। রাস্তায় পড়ে থাকা অসহায় এক নারীর চেহারায় নিজের হারিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে চিনে ফেলেন আলী হোসেন। আর মুহূর্তেই বদলে যায় একটি পরিবারের গল্প।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেল এক ভিন্ন আবহ। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর বাড়িটিতে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস। স্বজনেরা ভালোবাসায় ঘিরে রেখেছেন আলেয়া বেগমকে, আর খবর পেয়ে তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক প্রতিবেশীরা। দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ানোর ফলে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় আজ সকালেই তাকে একটি হ্যালো বাইকে করে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন স্বামী আলী হোসেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় তিন মাস আগে হুট করেই নিখোঁজ হন আলেয়া বেগম। নিজের নাম-ঠিকানা ঠিকমতো বলতে না পারায় নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাননি। স্বজনেরা বহু খোঁজাখুঁজি এবং এলাকায় প্রচারণা চালিয়েও তার কোনো দিশা পাননি।
ঠিক এমন সময় সিংগাইরের গোবিন্দল এলাকায় রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা আলেয়া বেগমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ধারণ করে পোস্ট করেন। ভিডিওটি স্ক্রিনে ভেসে উঠতেই আলী হোসেন এক দেখাতেই বুঝে যান, এটি আর কেউ নন - তারই সহধর্মিণী।
সংবাদ পেয়ে কালবিলম্ব না করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোবিন্দলে পৌঁছে যান আলী হোসেন। সেখানে স্ত্রীকে দেখামাত্রই ধরে রাখা আবেগ কান্নায় ভেঙে পড়ে। তিন মাসের সীমাহীন বিচ্ছেদের পর আলেয়াকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে নেন তিনি। এত দিন পর স্বামীকে কাছে পেয়ে চিনে নিতে ভুল করেননি মানসিকভাবে অসুস্থ আলেয়া বেগমও। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন মুহূর্ত দেখে কেঁদে ফেলেন উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
ভিডিও ধারণকারী রবিউল হক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় নারীটিকে দেখে আমার কেবলই মনে হয়েছিল, কোনোভাবে যদি তার পরিচয় বের করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকেই ভিডিওটি করা। আজ তিনি নিজের ঘরে ফিরে গেছেন শুনে মনটা শান্তিতে ভরে উঠেছে।"
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেল এক ভিন্ন আবহ। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর বাড়িটিতে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস। স্বজনেরা ভালোবাসায় ঘিরে রেখেছেন আলেয়া বেগমকে, আর খবর পেয়ে তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক প্রতিবেশীরা। দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ানোর ফলে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় আজ সকালেই তাকে একটি হ্যালো বাইকে করে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন স্বামী আলী হোসেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় তিন মাস আগে হুট করেই নিখোঁজ হন আলেয়া বেগম। নিজের নাম-ঠিকানা ঠিকমতো বলতে না পারায় নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাননি। স্বজনেরা বহু খোঁজাখুঁজি এবং এলাকায় প্রচারণা চালিয়েও তার কোনো দিশা পাননি।
ঠিক এমন সময় সিংগাইরের গোবিন্দল এলাকায় রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা আলেয়া বেগমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ধারণ করে পোস্ট করেন। ভিডিওটি স্ক্রিনে ভেসে উঠতেই আলী হোসেন এক দেখাতেই বুঝে যান, এটি আর কেউ নন - তারই সহধর্মিণী।
সংবাদ পেয়ে কালবিলম্ব না করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোবিন্দলে পৌঁছে যান আলী হোসেন। সেখানে স্ত্রীকে দেখামাত্রই ধরে রাখা আবেগ কান্নায় ভেঙে পড়ে। তিন মাসের সীমাহীন বিচ্ছেদের পর আলেয়াকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে নেন তিনি। এত দিন পর স্বামীকে কাছে পেয়ে চিনে নিতে ভুল করেননি মানসিকভাবে অসুস্থ আলেয়া বেগমও। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন মুহূর্ত দেখে কেঁদে ফেলেন উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
ভিডিও ধারণকারী রবিউল হক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় নারীটিকে দেখে আমার কেবলই মনে হয়েছিল, কোনোভাবে যদি তার পরিচয় বের করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকেই ভিডিওটি করা। আজ তিনি নিজের ঘরে ফিরে গেছেন শুনে মনটা শান্তিতে ভরে উঠেছে।"
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে