নিবন্ধনের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ১২:৫৩:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০১:৫৩:৫১ অপরাহ্ন
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নিবন্ধন, জোনভিত্তিক চলাচল ও জিপিএস নজরদারির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হবে।

প্রতিটি জোনে নির্ধারিতসংখ্যক রিকশা চলবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রাথমিকভাবে দুই সিটির ফিডার সড়কে মোট আট লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে।

এক প্রতিবেদনে কালবেলা জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ শীর্ষক নথিতে এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৩ ও ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে দুটি সভায় নিবন্ধন, রুট, চালকের লাইসেন্স, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যেগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। ঢাকার বাইরে রয়েছে আরো প্রায় ৪০ লাখ। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে রাজধানীতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ২৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটির ১ হাজার ১৭০ কিলোমিটার ফিডার সড়কে চার লাখ করে মোট আট লাখ রিকশা চলাচলের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে।

প্রধান সড়কে এসব রিকশা চলবে না।

জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে অনলাইনে জিপিএস ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি এবং অফলাইনে রিকশার গায়ে আলাদা রং ও নম্বরপ্লেটে জোনভিত্তিক কোড ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

পরিকল্পনায় বুয়েট অনুমোদিত নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের পর সড়কে নামানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে পুরোনো রিকশা বদলে নতুন রিকশা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

পুরনো গাড়ির মূল্য নতুন গাড়ির দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বাকি অর্থ মালিক নিজে বা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

দেশীয় দুই সিটের রিকশার সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুরনো গাড়ির মূল্য সমন্বয়ের পর নতুন রিকশা কিনতে প্রায় দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

খসড়া সিদ্ধান্তে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। মেয়াদ শেষে নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই সিটের রিকশার জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি এবং বছরে ৩ হাজার টাকা নবায়ন ফি প্রস্তাব করা হয়েছে।

১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য চালকের লাইসেন্স পাবেন। লাইসেন্সধারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

অবৈধ চার্জিং বন্ধে নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত চার্জিংয়ের পরিবর্তে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এতে এক থেকে দেড় মিনিটে ব্যবহৃত ব্যাটারির বদলে চার্জ করা ব্যাটারি বসিয়ে দেওয়া যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার লাখ রিকশার জন্য স্টেশনের সক্ষমতা অনুযায়ী এক হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থায়নে গ্রিন ফান্ড থেকে ৭০ শতাংশ, সরকারি প্রণোদনা ২০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :