​জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে জোরালো অবস্থান রাশিয়ার

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৩:২২:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৩:২৪:১৯ অপরাহ্ন
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে আবারও জোরালো সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া। বিশ্ব সংস্থার সর্বোচ্চ এই নীতি-নির্ধারণী সংস্থায় এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে কোনো অবস্থাতেই নতুন স্থায়ী আসন দেওয়া উচিত নয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশিয়ার পক্ষে এই স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানান তিনি। বক্তব্যে লাভরভ বলেন, 'আমরা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে সোচ্চার। স্থায়ী সদস্য হিসেবে আমরা ভারত ও ব্রাজিলের প্রার্থিতাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।'

নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে পশ্চিমা কোনো দেশকে স্থায়ী আসন না দেওয়ার বিষয়ে বেশ কঠোর হুশিয়ারি দেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে জার্মানি ও জাপানের নাম উল্লেখ করেন। লাভরভের মতে, এই দুটি দেশ বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামরিকীকরণ ও প্রতিশোধপরায়ণ নীতির দিকে এগোচ্ছে, ফলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নই ওঠে না। তবে সংস্কার প্রস্তাব সামনে আনলেও নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে মূল অধিকার ও 'ভেটো' ক্ষমতা রয়েছে, তা যেন কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়–সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে, রাশিয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি রাষ্ট্র জাতিসংঘে ভারতের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে স্পষ্ট ও সরাসরি অবস্থান প্রকাশ করেন।   

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নীতি-নির্ধারণী সর্বোচ্চ অঙ্গ নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স–এই ৫টি দেশ স্থায়ী সদস্য, যাদের কাছে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বাকি ১০টি দেশ দুই বছরের মেয়াদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়।   

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কাঠামোতে নতুন কোনো পরিবর্তন আনতে হলে জাতিসংঘ সনদ সংশোধন করা বাধ্যতামূলক। আর সনদ সংশোধনের জন্য সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন ও অনুমোদন দরকার। সবচেয়ে বড় শর্ত হলো–বর্তমান ভিটো ক্ষমতাপ্রাপ্ত পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকেরই এই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সায় বা অনুমোদন থাকতে হবে।   

যদিও রাশিয়া কৌশলগতভাবে ভারতের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে, তবে জাতিসংঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার এই জটিল ব্যবস্থার কারণে পুরো বিষয়টি এখনও কিছুটা অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে। তাছাড়া ভারতের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়ার অন্যতম নিকটতম অংশীদার চীন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :