মৃত্যু যন্ত্রণায় কাটছে দিন

নার্সের পেটে গজ রেখে সেলাই!

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন
সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নার্সের পেটের ভেতর গজ রেখেই পেট সেলাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিথী আক্তার (২৫) নামে এ নার্স জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এখন জীবন নিয়ে লড়তে হচ্ছে তাকে।

বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে)। পেশায় তিনি একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ। স্বামীর সঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলা হাট এলাকায় থাকেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের ৬ মে মাসে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিথী আক্তার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ‘আমি একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ (নার্স)। আমার সাথেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপারেশনের সময় তার পেটের ভেতরে গজ (মব) রেখে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি করে।

তিনি জানান, প্রথম অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও একটি বড় অপারেশন করতে হয় এবং সে সময় আইসিইউতে থাকতে হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পেটের নাড়ি পঁচে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারিও করা হয়। পরবর্তীতে আবারও অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাকে।

অভিযোগে বলা হয়, গত চার মাস ধরে তিনি মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

বিথী তার পোস্টে আরও জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি গত চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নিতে বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না।

‘বাচ্চাকে ধরা তো দূরের কথা, কান্না করলে ঘরে শুয়ে শুয়ে আমি নিজেই কান্না করি’— নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন বিথী। তিনি আরও বলেন, অসুস্থতার কারণে তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে বর্তমানে ৩৯ কেজিতে নেমে এসেছে এবং হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগ দেখা দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই বিথীর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণেরও দাবি তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিথী আক্তার দাবি করেন, ঘটনার স্বপক্ষে তার কাছে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এ নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :