পথে পথে ভোগান্তি

বরগুনার তালতলীতে সুন্দরের হাতছানি

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০১:০১:১৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০১:০১:১৮ অপরাহ্ন
 বরগুনার তালতলীতে টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ বন, নিদ্রা পয়েন্ট ও শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এসব এলাকায় রয়েছে নদী, সমুদ্র, বন ও জীববৈচিত্র্য। তবে দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আবাসন ও নিরাপত্তার অভাব এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পর্যটন অবকাঠামো বেহাল থাকায় বাধাগ্রস্ত করছে সেই সম্ভাবনাকে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।

তালতলীর টেংরাগিরি দেশের অন্যতম বড় ম্যানগ্রোভ বন। ১৩ হাজার ৬৪৪ একর আয়তনের এ বনকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয় ২০১০ সালে। সুন্দরী, কেওড়া, গেওয়া, গরান, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাশাপাশি এখানে দেখা যায় হরিণ, মেছোবাঘ, কুমির, বানর ও নানা প্রজাতির পাখি।

২০১৩ সালে বনের ভেতরে প্রায় তিন কিলোমিটার ইটের সড়ক নির্মাণ করে গড়ে তোলা হয় টেংরাগিরি ইকোপার্ক। সড়কটি ধরে যাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের তীরে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইকোপার্কের বিভিন্ন স্থাপনা এখন জরাজীর্ণ। পর্যটকদের থাকার জন্যও নেই সরকারি বা বেসরকারি কোনো আবাসন।

বঙ্গোপসাগরের তীরে নিদ্রা পয়েন্ট বা নিদ্রারচর সৈকতে সারি সারি ছইলা ও কেওড়াগাছ, সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ মাঠ এবং প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত আকর্ষণ করছে পর্যটকদের। কিন্তু সেখানে নেই রাতযাপনের কোনো ব্যবস্থা।

পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর মোহনায় অবস্থিত শুভসন্ধ্যা সৈকতেও আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতে রয়েছে ঝাউবন। উপজেলা প্রশাসনের একটি ডাকবাংলো থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় রাতযাপন করেন না পর্যটকরা।

ঢাকা-কুয়াকাটা সড়ক দিয়ে আসা পর্যটকদের আমতলী হয়ে যেতে হয় এসব পর্যটনকেন্দ্রে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ পথে সড়কের
বিভিন্ন অংশ প্রায়ই থাকে ভাঙাচোরা। এতে একবার ঘুরতে এসে অনেকে দ্বিতীয়বার আসতে চান না।

পর্যটন ব্যবসায়ী নাঈম হোসেন জানিয়েছেন, কুয়াকাটায় আসা অনেক পর্যটককে তিনি তালতলীর এসব স্থানে নিয়ে যান। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন-সুবিধার ঘাটতির কারণে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বরগুনা জেলা ট্যুরিস্ট ম্যানেজমেন্টের সভাপতি আরিফ রহমান বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্রগুলো সাজানো এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হোটেল-মোটেল নির্মাণে সুযোগ দিলে কর্মসংস্থান বাড়বে।

বন বিভাগের সাকিনা বিট কর্মকর্তা রহিমুল ইসলাম জুমেল বলেছেন, টেংরাগিরি ইকোপার্ক সংস্কারের জন্য প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে স্থাপনাগুলোর সংস্কার করা হবে।

জেলা প্রশাসক তছলিমা আক্তার বলেছেন, ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধানে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। বড় উন্নয়নের বিষয়গুলো পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ওলি উল্লাহ বলেছেন, বরগুনার পর্যটনকেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :