কৃত্রিম পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র নয়, প্রকৃতির প্রাকৃতিক রূপকে কাজে লাগিয়ে শেরপুর সীমান্তে পর্যটন শিল্পের এক নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশন। বিশেষজ্ঞ ও হাতি গবেষকদের মতে, এই বনভূমিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসবেন।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলা জুড়ে প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। এর মধ্যে ১৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বন্যহাতির প্রধান বিচরণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ভারতের পিক পাহাড় থেকে দলছুট হয়ে আসা ২০-২৫টি হাতির সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টিতে। উপযুক্ত আবাসন ও খাবারের অভাবে হাতির দল পুরো বনভূমি চষে বেড়াচ্ছে, যার ফলে মানুষ ও হাতির সংঘাত এবং প্রাণহানি ঘটছে।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে আয়োজিত এক সেমিনারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘প্রাকৃতিক বনই হাতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট আবাসস্থল। গারো পাহাড়ে অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হলে আগে প্রাকৃতিক বন ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সাথে অভয়ারণ্যের ভেতরে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘হাতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করা গেলে লোকালয়ে হাতির বিচরণ কমবে, যা মানবেতর সংঘাত ও প্রাণহানি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘হাতির জন্য অবাধ বিচরণক্ষেত্র বা অভয়ারণ্য তৈরির লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি। প্রাকৃতিক পাহাড়, বনভূমি ও বুনো হাতির বিচরণকে কেন্দ্র করে এখানে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে স্থানীয় মানুষের বড় ধরনের কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
পর্যটকদের আবাসন সুবিধার বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘পর্যটকরা যেন মানসম্মত খাবার ও থাকার সুবিধা পান, সেজন্য সরকারিভাবে হোটেল-মোটেল নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এই এলাকায় শ্রীবরদীর রাজা পাহাড়, ঝিনাইগাতীর হাড়িয়া কোনা ও মায়াবী লেক, নালিতাবাড়ীর দাওধারা কাটাবাড়ী ও পানিহাটার মতো সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক স্থানের পাশাপাশি গজনী অবকাশ ও মধুটিলা ইকোপার্কের মতো কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্রও রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে প্রকৃতি রক্ষার পাশাপাশি বদলে যেতে পারে সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলা জুড়ে প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। এর মধ্যে ১৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বন্যহাতির প্রধান বিচরণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ভারতের পিক পাহাড় থেকে দলছুট হয়ে আসা ২০-২৫টি হাতির সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টিতে। উপযুক্ত আবাসন ও খাবারের অভাবে হাতির দল পুরো বনভূমি চষে বেড়াচ্ছে, যার ফলে মানুষ ও হাতির সংঘাত এবং প্রাণহানি ঘটছে।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে আয়োজিত এক সেমিনারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘প্রাকৃতিক বনই হাতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট আবাসস্থল। গারো পাহাড়ে অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হলে আগে প্রাকৃতিক বন ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সাথে অভয়ারণ্যের ভেতরে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘হাতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করা গেলে লোকালয়ে হাতির বিচরণ কমবে, যা মানবেতর সংঘাত ও প্রাণহানি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘হাতির জন্য অবাধ বিচরণক্ষেত্র বা অভয়ারণ্য তৈরির লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি। প্রাকৃতিক পাহাড়, বনভূমি ও বুনো হাতির বিচরণকে কেন্দ্র করে এখানে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে স্থানীয় মানুষের বড় ধরনের কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
পর্যটকদের আবাসন সুবিধার বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘পর্যটকরা যেন মানসম্মত খাবার ও থাকার সুবিধা পান, সেজন্য সরকারিভাবে হোটেল-মোটেল নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এই এলাকায় শ্রীবরদীর রাজা পাহাড়, ঝিনাইগাতীর হাড়িয়া কোনা ও মায়াবী লেক, নালিতাবাড়ীর দাওধারা কাটাবাড়ী ও পানিহাটার মতো সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক স্থানের পাশাপাশি গজনী অবকাশ ও মধুটিলা ইকোপার্কের মতো কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্রও রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে প্রকৃতি রক্ষার পাশাপাশি বদলে যেতে পারে সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন