নেছারাবাদে শতবর্ষী নৌকার হাট, বর্ষায় ১০-১২ কোটি টাকার বাণিজ্য

আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৩:৪০:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৫:১২:২৮ অপরাহ্ন
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার কুড়িয়ানা খালে শতবর্ষী নৌকার হাট এখনো জমজমাট। প্রতি সোম ও শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বসা এই হাটে বর্ষা মৌসুমে ছোট-বড় নানা ধরনের নৌকা কেনাবেচা হয়। স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার পাশাপাশি নৌকার এই হাট এখন পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তবে পর্যাপ্ত ঘাট, শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক শতাব্দী কুড়িয়ানা খালে নৌকার হাট বসছে। বর্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হলে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। মৎস্যজীবী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের পাশাপাশি কুড়িয়ানার ভাসমান পেয়ারা ও আমড়ার বাগানে চলাচলেও এসব নৌকা ব্যবহার করা হয়।

নেছারাবাদ ও নাজিরপুরের কারিগররা রেইনট্রি, চাম্বল, কড়ই ও মেহগনি কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করেন। আকার ও কাঠের মানভেদে প্রতিটি নৌকা ২ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রতি হাটে গড়ে ২০০-২৫০টি নৌকা বিক্রি হয়। এতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। পুরো বর্ষা মৌসুমে হাটকে ঘিরে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার বাণিজ্য হয় বলে তাদের দাবি।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, খালের পানিতে সারি সারি নৌকা রাখা হয়েছে। পাড়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। তবে বৃষ্টির সময় ব্যবসায়ীদের খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয়। জরাজীর্ণ পাকা ঘাট ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষও।

পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বললেন, নৌকার হাট, কুড়িয়ানার পেয়ারাবাগান ও ভাসমান চাষকে ঘিরে নেছারাবাদকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, হাটটির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে পাকা ঘাট, শৌচাগার, বিশ্রামাগারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।

হাটের ইজারাদার হুমায়ুন মোল্লা বললেন, ‘দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা আসেন। তাদের সুবিধার জন্য জরাজীর্ণ ঘাট সংস্কারসহ মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন জরুরি।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কুড়িয়ানা খালের নৌকার হাট শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, দক্ষিণাঞ্চলের জলনির্ভর জীবন ও লোকজ সংস্কৃতিরও অংশ। পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই হাটকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :