​যন্ত্রের ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল শত শত ফ্লাইট, চরম ভোগান্তি

আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৪:২৩:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৪:২৩:২১ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈদ্যুতিক সংযোগ নষ্ট হওয়ার পর নেওয়ার্ক, ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে কয়েকশ ফ্লাইটে দেখা দেয় দীর্ঘ বিলম্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, নিউ জার্সিতে রেল নির্মাণকাজ চলার সময় একটি দল ভুল করে ভূগর্ভস্থ যোগাযোগ তার কেটে ফেলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুরোনো অবকাঠামো আধুনিক করতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, অবকাঠামো উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

তবে আমট্রাকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের নিজস্ব কর্মীরা ওই তার কাটেননি। নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার হয়ে কাজ করা একটি ঠিকাদারি নির্মাণ দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।

নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থা জানিয়েছে, নিউ ব্রান্সউইক ও নর্থ ব্রান্সউইকের মধ্যবর্তী এলাকায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে নির্মাণকাজ চালানোর সময় একটি তন্তু-ভিত্তিক যোগাযোগ তার দুর্ঘটনাক্রমে কেটে যায়। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন এ ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া তাদের একটি যোগাযোগ তার নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার নির্মাণকাজের সময় কেটে যায়। তারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের সব যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিপর্যয়ের পর প্রথমে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়। পরে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া ও জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এ সময় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা নিউইয়র্কে আসছিলেন। ফলে বিমান চলাচলে সৃষ্ট এই সংকটের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়।

ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নেওয়ার্ক ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্ব হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নেওয়ার্ক বিমানবন্দরে প্রায় ৬১৯টি এবং ফিলাডেলফিয়ায় ১৯৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর পাশাপাশি দুই বিমানবন্দরেই আরও কয়েকশ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও পাইলটদের কথোপকথনেও পরিস্থিতির জটিলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফিলাডেলফিয়া থেকে এক পাইলট দীর্ঘ সময় ধরে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকার কারণ জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে যন্ত্রের সমস্যার কথা জানানো হয়। সমস্যাটি কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কর্মী জানান, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

নিউ জার্সি ও আশপাশের আকাশপথ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত বিমান চলাচল এলাকা। গত বছরও যন্ত্রের ত্রুটির কারণে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল। সে সময় প্রায় এক ডজন উড়োজাহাজ প্রায় ৯০ সেকেন্ড যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আকাশে ছিল। তবে ওই ঘটনায় উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছিলেন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলাডেলফিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বড় ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়। কেন্দ্রটি নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করে। ত্রুটির কারণে ওই এলাকার রানওয়েতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়োজাহাজ অপেক্ষায় থাকে।

শন ডাফি জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা মেরামত করা সম্ভব হয়। এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে ইতোমধ্যে জমে থাকা বিলম্বের প্রভাব কাটিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, মূল ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় বিকল্প ব্যবস্থার একটি যোগাযোগ তারও কেটে গেছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও সময় প্রয়োজন হয়।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :