জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় নতুন করে বিপাকে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা। বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে আয় বাড়েনি। ফলে প্রতিটি ট্রিপে খরচ বাড়লেও রাইডের ভাড়া থাকছে আগের মতোই। দিন শেষে হাতে থাকছে না টাকা।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যাত্রী সংকট। বাড়তি ভাড়া দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক যাত্রী। ফলে কম আয়ে দিন পার করতে হচ্ছে চালকদের।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেলিম হোসেন। চাকরির পাশাপাশি সংসারের খরচ মেটাতে রাইড শেয়ারিং করেন তিনি। মাসে তার খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা।
তেলের দাম বাড়ার পর বাড়তি খরচের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘আমার মাস শেষে খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। কিন্তু আয় তো বাড়ে না। বরং জিনিসপত্রের দাম শুধু বাড়ছেই, খরচও বাড়ছে। তার ওপর আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি তেলের দাম বেড়ে গেছে।’
সেলিম জানান, রাইড শেয়ারিং করে প্রতি ট্রিপে তার আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তবে যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর পরবর্তী ট্রিপ পেতে অনেক সময় প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
এই অপেক্ষার সময় নাস্তা করলে বাড়ে বাড়তি খরচ। ফলে একটি ট্রিপ থেকে পাওয়া আয়ের বড় অংশই চলে যায় দৈনন্দিন খরচে।
সেলিম বলছিলেন, ‘এখন আমি একটা ট্রিপ দিলে কামাই করি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আবার যাত্রীদের নিয়ে যেখানে যাই সেখান থেকে ফিরতি ট্রিপ পেতে প্রায় ঘণ্টা খানেক লাগে। সেই সময়টুকুতে যদি কোনো নাস্তা করি তাহলে আমার এক্সট্রা খরচ হয়। দেখা যায়, প্রতি ট্রিপে প্রায় ১০০ টাকার মতো খরচই হয়ে যায়। তাহলে কত টাকাই আর থাকে?’
গত দুই মাসের মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ার দিনটিই সবচেয়ে কম আয় হয়েছে বলে জানান সেলিম। তিনি বলেছেন, প্রতিদিনের আয় ও খরচ এক রকম হয় না।
তার ভাষায়, ‘প্রতিদিন তো আর একই যায় না। তবে গত দুই মাসের মধ্যে আজকেই সবচেয়ে বেশি কম কামাই করসি। আর কামাই কম করলে তো আর খরচ বেশি করতে মন চায় না।’
সেলিম জানান, তিনি সাধারণত প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেন। জ্বালানির দাম বাড়ার দিন সকালে একবার তেল নেওয়ার পর আর পাম্পে যাননি।
এদিকে, বিজয় সরণিতে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক রাইড শেয়ারিং চালক ওবায়দুল্লাহ। দিন শেষে তার আয় হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা।
ওবায়দুল্লাহর ভাষ্য, জ্বালানির দাম বাড়ার পর যাত্রী কমে গেছে। এ কারণে আয়ও কমেছে। তিনি বলেছেন, ‘তেলের দাম বাড়ার কারণে আজকে কাস্টোমারই আসছে না। ভাড়া নিয়ে কথাও বলছে না। রাইড শেয়ারিং অ্যাপেও ভাড়া বাড়াচ্ছে না। সরাসরি যেতে চাইলে বেশি ভাড়া শুনে তারাও যাচ্ছে না।’
বাড়তি দামের কারণে বাইকে আগের তুলনায় বেশি তেল লাগছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল্লাহ বক্তব্য, তেলের প্রয়োজন আগের মতোই আছে। তবে একই পরিমাণ তেল কিনতে এখন বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।
ওবায়দুল্লাহ বলেছেন, ‘তেল তো আগের মতোই লাগবে। কিন্তু টাকা খরচ হবে বেশি আর কি। আগে এক হাজার টাকায় তিনদিন পার করতে পারলেও বর্তমানে হয়তো দুইদিন পার করতে পারবো।’
গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে।
এরপর থেকেই বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল রাইড শেয়ারিং চালকদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে আরও বেশি।
কারণ জ্বালানি খরচ বাড়লেও অ্যাপভিত্তিক রাইডের ভাড়া একই রয়েছে। এতে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
বিজয় সরণিতে ওবায়দুল্লাহর পাশেই বাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আরেক চালক কবির মিয়া। তিনি জানান, উবারে আগের তুলনায় ভাড়া বাড়েনি। তাই অ্যাপ থেকে আসা অনেক রাইডই তিনি গ্রহণ করছেন না।
কবির মিয়া বলেছেন, ‘উবার বা পাঠাও থেকে এখন কেউ কল করলে ধরি না। কারণ উবারে ভাড়া অনেক কম বলে, পোষায় না। এর চাইতে সামনাসামনি ভাড়া যা পাই সেটাতেই যাই।’
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে পাম্পগুলোতেও। বিজয় সরণির পাশের ট্রাস্ট ফুয়েল পাম্পের কর্মচারী রাব্বি জানান, দাম বাড়ার আগের রাতে পাম্পে তুলনামূলক বেশি ভিড় ছিল।
দাম বাড়ার পর সকালে ভিড় কম থাকলেও অফিস ছুটির সময় আবার মানুষ তেল নিতে আসছেন বলে জানান তিনি।
রাব্বির ভাষ্য, ‘তেলের দাম বাড়ার কারণে সকালে খুব একটা ভিড় ছিল না। কিন্তু এখন তো অফিস শেষের দিকে, তাই সবাই আসতেছে। ভিড় খুব বেশি নাই। কালকে রাতে ভিড় ছিল অনেক। সেই তুলনায় কম ভিড় আজকে।’
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। বিবৃতিতে জামায়াত বলেছে, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়বে। এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত গতকাল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে।
গত রবিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনে লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। ওই রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন দাম।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যাত্রী সংকট। বাড়তি ভাড়া দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক যাত্রী। ফলে কম আয়ে দিন পার করতে হচ্ছে চালকদের।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেলিম হোসেন। চাকরির পাশাপাশি সংসারের খরচ মেটাতে রাইড শেয়ারিং করেন তিনি। মাসে তার খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা।
তেলের দাম বাড়ার পর বাড়তি খরচের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘আমার মাস শেষে খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। কিন্তু আয় তো বাড়ে না। বরং জিনিসপত্রের দাম শুধু বাড়ছেই, খরচও বাড়ছে। তার ওপর আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি তেলের দাম বেড়ে গেছে।’
সেলিম জানান, রাইড শেয়ারিং করে প্রতি ট্রিপে তার আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তবে যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর পরবর্তী ট্রিপ পেতে অনেক সময় প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
এই অপেক্ষার সময় নাস্তা করলে বাড়ে বাড়তি খরচ। ফলে একটি ট্রিপ থেকে পাওয়া আয়ের বড় অংশই চলে যায় দৈনন্দিন খরচে।
সেলিম বলছিলেন, ‘এখন আমি একটা ট্রিপ দিলে কামাই করি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আবার যাত্রীদের নিয়ে যেখানে যাই সেখান থেকে ফিরতি ট্রিপ পেতে প্রায় ঘণ্টা খানেক লাগে। সেই সময়টুকুতে যদি কোনো নাস্তা করি তাহলে আমার এক্সট্রা খরচ হয়। দেখা যায়, প্রতি ট্রিপে প্রায় ১০০ টাকার মতো খরচই হয়ে যায়। তাহলে কত টাকাই আর থাকে?’
গত দুই মাসের মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ার দিনটিই সবচেয়ে কম আয় হয়েছে বলে জানান সেলিম। তিনি বলেছেন, প্রতিদিনের আয় ও খরচ এক রকম হয় না।
তার ভাষায়, ‘প্রতিদিন তো আর একই যায় না। তবে গত দুই মাসের মধ্যে আজকেই সবচেয়ে বেশি কম কামাই করসি। আর কামাই কম করলে তো আর খরচ বেশি করতে মন চায় না।’
সেলিম জানান, তিনি সাধারণত প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেন। জ্বালানির দাম বাড়ার দিন সকালে একবার তেল নেওয়ার পর আর পাম্পে যাননি।
এদিকে, বিজয় সরণিতে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক রাইড শেয়ারিং চালক ওবায়দুল্লাহ। দিন শেষে তার আয় হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা।
ওবায়দুল্লাহর ভাষ্য, জ্বালানির দাম বাড়ার পর যাত্রী কমে গেছে। এ কারণে আয়ও কমেছে। তিনি বলেছেন, ‘তেলের দাম বাড়ার কারণে আজকে কাস্টোমারই আসছে না। ভাড়া নিয়ে কথাও বলছে না। রাইড শেয়ারিং অ্যাপেও ভাড়া বাড়াচ্ছে না। সরাসরি যেতে চাইলে বেশি ভাড়া শুনে তারাও যাচ্ছে না।’
বাড়তি দামের কারণে বাইকে আগের তুলনায় বেশি তেল লাগছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল্লাহ বক্তব্য, তেলের প্রয়োজন আগের মতোই আছে। তবে একই পরিমাণ তেল কিনতে এখন বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।
ওবায়দুল্লাহ বলেছেন, ‘তেল তো আগের মতোই লাগবে। কিন্তু টাকা খরচ হবে বেশি আর কি। আগে এক হাজার টাকায় তিনদিন পার করতে পারলেও বর্তমানে হয়তো দুইদিন পার করতে পারবো।’
গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে।
এরপর থেকেই বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল রাইড শেয়ারিং চালকদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে আরও বেশি।
কারণ জ্বালানি খরচ বাড়লেও অ্যাপভিত্তিক রাইডের ভাড়া একই রয়েছে। এতে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
বিজয় সরণিতে ওবায়দুল্লাহর পাশেই বাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আরেক চালক কবির মিয়া। তিনি জানান, উবারে আগের তুলনায় ভাড়া বাড়েনি। তাই অ্যাপ থেকে আসা অনেক রাইডই তিনি গ্রহণ করছেন না।
কবির মিয়া বলেছেন, ‘উবার বা পাঠাও থেকে এখন কেউ কল করলে ধরি না। কারণ উবারে ভাড়া অনেক কম বলে, পোষায় না। এর চাইতে সামনাসামনি ভাড়া যা পাই সেটাতেই যাই।’
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে পাম্পগুলোতেও। বিজয় সরণির পাশের ট্রাস্ট ফুয়েল পাম্পের কর্মচারী রাব্বি জানান, দাম বাড়ার আগের রাতে পাম্পে তুলনামূলক বেশি ভিড় ছিল।
দাম বাড়ার পর সকালে ভিড় কম থাকলেও অফিস ছুটির সময় আবার মানুষ তেল নিতে আসছেন বলে জানান তিনি।
রাব্বির ভাষ্য, ‘তেলের দাম বাড়ার কারণে সকালে খুব একটা ভিড় ছিল না। কিন্তু এখন তো অফিস শেষের দিকে, তাই সবাই আসতেছে। ভিড় খুব বেশি নাই। কালকে রাতে ভিড় ছিল অনেক। সেই তুলনায় কম ভিড় আজকে।’
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। বিবৃতিতে জামায়াত বলেছে, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়বে। এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত গতকাল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে।
গত রবিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনে লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। ওই রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন দাম।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন