যাচ্ছে চীন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে

হাঁসের পালকে নতুন সম্ভাবনা

আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৩:৫৩:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৪:৩৭:৪২ অপরাহ্ন
একসময় হাঁসের পালক ছিল মানুষের কাছে নিছক ফেলনা। হাঁসের পালক সংগ্রহ করে সাধারণত তা ফেলে দেওয়া হতো। সেই অবহেলিত পালকই এখন হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় শিল্পের কাঁচামাল। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর বাজারে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে ডাউন বা পালকের তুলা। এই তুলা দিয়ে তৈরি হচ্ছে শীতের জ্যাকেট, কম্বল, পিলোসহ বিভিন্ন পণ্য। আর পালকের বড় অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাডমিন্টনের ফেদারের কক।

তিলকপুর বাজারে গড়ে ওঠা ‘শারাবাংলা ডাউন প্রোডাক্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করছে। প্রক্রিয়াজাত করা এসব পালক চীন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে। উদ্যোক্তার দাবি, বিদেশে এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় ছোট পরিসরের এই উদ্যোগকে বড় শিল্পে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর উদ্যোক্তা মো. আলতাফ হোসেন জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করা হয়। পরে চীন থেকে আনা বিশেষায়িত মেশিনের মাধ্যমে পালক বাছাই, পরিষ্কার ও বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে ডাউন বা পালকের তুলা তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ সালে ছোট পরিসরে হাঁসের পালক নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় তখন কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারেননি। পরে ২০১৫ সালে চীনে গিয়ে এ বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং এক বছর ইন্টার্নশিপ করেন। সেখানে হাঁসের পালক সংগ্রহ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেন।

আলতাফ হোসেন বলেন, আগে মানুষ হাঁসের পালক ফেলে দিত। ব্যবসা শুরুর পর বিভিন্নভাবে প্রচার করে মানুষকে পালকের মূল্য সম্পর্কে জানানো হয়। এখন অনেকেই পালক ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে রাখেন এবং বিক্রি করেন। সারা দেশে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ভেন্ডার রয়েছে। শুরুতে পালক প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠাতে বেশ সময় লাগত। পরে চীন থেকে বিশেষায়িত মেশিন আনা হয়। এতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মান ও সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানে পণ্য পাঠানো হচ্ছে। চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে আলতাফ হোসেন বলেন, পুরো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তখন এই পালকের তুলা দিয়ে দেশেই জ্যাকেট, পিলো ও কম্বল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বড় বাজার রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দেশে হাঁসের পালকের ডাউন দিয়ে জ্যাকেট, পিলো ও কম্বল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। পাশাপাশি হাঁসের বড় পালক দিয়ে ব্যাডমিন্টনের ফেদারের কক তৈরি করা যায়। এসব পালক প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে পাঠানো হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগেও হাঁসের পালক ফেলে দেওয়া হতো। এখন পালকের আর্থিক মূল্য তৈরি হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের অনেকেই সেগুলো সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন। ফলে একদিকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া একটি উপাদান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হাঁস পালনের সঙ্গে জড়িত মানুষ অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রথমে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পালক শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মেশিনের মাধ্যমে বাছাই ও পরিষ্কার করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পালকের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ডাউন বা তুলা এবং ফেদার প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ জন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :