আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ

আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৩:২০:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৩:৪৯:২৯ অপরাহ্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। মূলত আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।  

তিনি রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানান।  

এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার ও আরও একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসান। এ ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে পরিকল্পনা করে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যায় সে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ফাহাদ। পরে ফাহাদকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, কামরুলও জড়িত ছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, এরপরই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে অপ্রতিমকে হত্যার বর্ণনায় তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা-৬টার দিকে ওই জঙ্গলে আইফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে অপ্রতিম তাদের বাধা দেয়। এতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়।

এছাড়াও এই ঘটনায় সিয়াম নামের আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

প্রসঙ্গত, বুকফাটা আর্তনাদে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। একইসঙ্গে স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে নির্মম শিকার ১৩ বছরের এই কিশোরকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবরে আকুতি ছিল, যেন সে জীবিত ফিরে আসুক। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও।

উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

অপ্রতিম হত্যায় গ্রেপ্তার চার, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :