আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০২:২৯:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০২:২৯:২১ অপরাহ্ন
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও বিষয়টির বিরোধিতা করেছিলেন। আমরা সংস্কারের পথ এড়িয়ে সংশোধনের নামে এই কমিটি গঠনকে কনসেপচুয়ালি প্রত্যাখ্যান করছি।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগটি অবশ্য চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আলোচনায় আসে। ২৯ এপ্রিল সরকারদলীয় পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল থেকে সদস্য না দেয়ায় ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতবিনিময়ের জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ১১ দলীয় ঐক্য সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে—সেটি পরিষ্কার করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা সংবিধান সংশোধনের কোনো উদ্যোগকে ধারণাগতভাবে সমর্থন করবেন না। আমাদের দাবি, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাতেও সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম এবং গণভোট সবকিছুর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার। ফলে এখন সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে শুধু সংসদীয় সংশোধনের পথে যাওয়া উচিত নয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। গণভোটে জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত নেয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে মত দেয়নি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকেও অনুমোদন দিয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। একই সময়ে জামায়াত ও তাদের শরিক দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের প্রস্তাব তাদের দেয়া হয়নি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ওই পরিষদের শপথ নেয়া হয়নি।

গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংসদ বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে গঠিত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভিত্তি তিনি জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা বা ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, সংবিধান সংসদ সৃষ্টি করে, সংসদ সংবিধান সৃষ্টি করে না। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। তাই জনগণ গণভোটের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়া অনুমোদন করে থাকলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা উচিত।
  
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :