বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বিগত সময়ে গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল বলে মনে করছে সংসদীয় কমিটি। কমিটি জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার কারণে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা এখন মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন (অথেন্টিকেশন) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে অংশ নেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিভিন্ন দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনাকালে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।
এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতারণা, অনিয়ম ও মানবপাচারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসন এবং প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন উইং চালুর প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
জানানো হয়, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সহায়তা জোরদার এবং অভিবাসীকর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এ উইং ভূমিকা রাখবে। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণে শুধু বিদেশে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কর্মী পাঠানোর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যাচাই-বাছাই জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান জোরদার এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তবে পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব থাকবে; তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শেষে আগামী অক্টোবর মাসে কমিটির সদস্যদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করা হয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন (অথেন্টিকেশন) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে অংশ নেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিভিন্ন দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনাকালে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।
এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতারণা, অনিয়ম ও মানবপাচারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসন এবং প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন উইং চালুর প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
জানানো হয়, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সহায়তা জোরদার এবং অভিবাসীকর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এ উইং ভূমিকা রাখবে। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণে শুধু বিদেশে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কর্মী পাঠানোর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যাচাই-বাছাই জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান জোরদার এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তবে পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব থাকবে; তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শেষে আগামী অক্টোবর মাসে কমিটির সদস্যদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করা হয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে