​সোনালী ব্যাংকের ‘অবৈধ’ দুই বোনাস ফেরত দিতে আবারও চিঠি

আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৪:০১:৩৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৪:০১:৩৪ অপরাহ্ন
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া নিয়মবহির্ভূত দুটি উৎসাহ বোনাসের অর্থ ফেরত এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাদানের নির্দেশ দিয়ে পুনরায় চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচটি সূচক মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বোনাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও ২০২৩ সালে ব্যাংকটির কর্মীদের পাঁচটি বোনাস প্রদান করা হয়েছিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো এই সংক্রান্ত একটি চিঠিতে অতিরিক্ত দুই বোনাসের অর্থ আদায় করে তা দ্রুত সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালেও প্রথম দফায় একই বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

​আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ২০২৩ সালে পাঁচটি উৎসাহ বা পারফরমেন্স বোনাস গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের আবেদন জানানো হলেও নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় তা নাকচ করে দেয় বিভাগটি। সোনালী ব্যাংকে কর্মরত প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অতিরিক্ত অর্থ সুবিধা পেয়েছেন, যেখানে প্রতি বোনাসে ব্যাংকের খরচ হয়েছে আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা।

​ব্যাংক সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আফজাল করিমকে অবরুদ্ধ করে নিয়মিত পাঁচটি বোনাস দাবির জন্য চাপ দেয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। পরবর্তীতে একই দাবিতে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী।

তৎকালীন পর্ষদ চাপের মুখে নীতিবহির্ভূত এই বোনাস অনুমোদন দিলে পরবর্তীতে নিরীক্ষা আপত্তি উত্থাপন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৪ সালের আগস্টে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে টেলিফোনে তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

​পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে অতিরিক্ত দুই বোনাস ফেরতের প্রথম নির্দেশনা পাঠানো হলেও বিগত দেড় বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য গ্রহণের জন্য সোনালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি শওকত আলী খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা ও বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হলেও তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি।

​প্রসঙ্গত, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও তফসিলি ব্যাংকগুলোতে ঢালাও বোনাস বিতরণ বন্ধে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর একটি নতুন সমন্বিত নির্দেশিকা জারি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফা, আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের পাঁচটি সূচকের মূল্যায়নে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বরের ওপর নির্ভর করে বোনাস দেওয়ার নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :