গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে হুতি যোদ্ধারা, বন্ধ হয়ে গেল সৌদির তেল পাইপলাইন

আপলোড সময় : ১২-০৯-২০২৬ ১০:৪৮:৪৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৯-২০২৬ ১০:৪৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ইরাক থেকে আসা একটি ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একই সময়ে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। হরমুজ প্রণালিতে তেল বাণিজ্যের জট কমাতে এই পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুদ্ধ প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে থাকার সময় পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় তেল সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের মিত্রগোষ্ঠীটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বজায় রাখতে পারলে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে থাকা হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথও ইরানের প্রভাবের আওতায় থাকবে। এতে দ্বিতীয় একটি বড় নৌপথ দিয়ে সরবরাহ কমে গিয়ে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুতির হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ওয়াশিংটনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টি নভেম্বরের কংগ্রেশনাল নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের দুটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের বাহিনী পেরিম থেকে সরে গেছে। একই সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর ধুবাবও দখল করেছে হুতি। শহরটি পেরিম দ্বীপের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত।

প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয়। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, তা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব লোহিত সাগরপথের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে একাধিক হামলার পর বিদ্যমান পাইপলাইন সক্ষমতাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার তথ্য সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সৌদি আরব শুধু জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ইরাক থেকে এসেছিল। ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের উপস্থিতি রয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এখন পর্যন্ত রিয়াদ কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি। হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরাক সরকারও।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই তেল পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেলকে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর প্রধান বিকল্প পথ। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। তবে রপ্তানির ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে নেমেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এর একটি কারণ হিসেবে বাব আল-মান্দেব দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজে হুতি-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমলেও সপ্তাহ শেষে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকার পথে রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝির পর এই প্রথম এমনটি হতে যাচ্ছে। এদিকে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া সব ধরনের নৌযানের জন্য সামুদ্রিক চলাচল নিরাপদ রয়েছে। সৌদি জাহাজের ওপর আগে ঘোষণা দেয়া এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সৌদি যুবরাজের ট্রাম্পকে সহায়তার অনুরোধ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার অন্তত দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছে। এর আগে অ্যাক্সিওসও একই তথ্য জানিয়েছিল।

সূত্রগুলো বলেছে, ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়নি। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে। ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে ফোনালাপ নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ওয়াশিংটন।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :