বিতরণে বিলম্ব, ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৬:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৬:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে এক–দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নেওয়া হয়েছে। তবে সার নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু কৃষক হুড়োহুড়ি করে বস্তা নিয়ে গেছেন। সেটি লুটের ঘটনার ভিডিও দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, সোমবার বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। কৃষকেরা রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সার বিক্রির সময় পেরিয়ে গেলেও ডিলার পয়েন্টে ডিলার, কৃষি কর্মকর্তা অথবা পুলিশ-প্রশাসন কেউই উপস্থিত হয়নি। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত পাওয়া যায়নি।

কৃষকেরা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন বলে জানিয়েছেন

সার ডিলারের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সারের বস্তা নিয়ে যান। পরে অনেকে কিছু বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। অনেকে আবার সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছেন। কেউ কেউ আবার টাকা দিয়ে গেছেন।

সাইফুল আরও বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট তিন শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়েছিল। আজ ঘরে ৭৩৯ বস্তা সার ছিল। সারের কোনো সংকট ছিল না। কিন্তু কৃষকেরা নিজেরাই গন্ডগোল ও হুড়োহুড়ি শুরু করেন। আমরা প্রশাসনকে ডাকতে গেছি। এরই মধ্যে ঘরের একদিকের বেড়া ও দরজা ভেঙে তাঁরা কিছু বস্তা সার নিয়ে গেছেন।’

পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। বিতরণের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :