সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল গ্রাউন্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় বছর আগে। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্রাহক না থাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি প্ল্যান্টটি। নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এ অবস্থায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও বিপাকে পড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজারসহ দেশের ৪০টি পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় করা হয় এ প্ল্যান্ট নির্মাণ। ২০১৮ সালের জুনে পৌরসভার ফতেহপুর এলাকায় লোলা খালের পাশে ১ একর জমিতে শুরু হয় প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রায় ৪৫ হাজার পৌরবাসীর জন্য নির্মিত এই প্ল্যান্ট থেকে বর্তমানে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে মাত্র ২০০টি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নাগরিকদের আগ্রহ কম থাকায় পর্যাপ্ত সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের অনেকের বাড়িতেই টিউবওয়েল রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পুকুর থাকায় দৈনন্দিন কাজে পানির সংকট নেই। তাই মাসিক বিল দিয়ে পৌরসভার পানি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না তারা। ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বললেন, ‘আমাদের খাবার পানির জন্য টিউবওয়েল আছে। হাঁড়ি-পাতিল ধোয়ার কাজ পুকুরে করা যায়। তাই মাসে টাকা দিয়ে পৌরসভার পানির সংযোগ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।’
বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও কসবা গ্রামের বাসিন্দা মিলাদ মোহাম্মদ জয়নুল ইসলাম বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ পরিকল্পনা এবং চাহিদা নিরূপণ করা হয়নি। যেসব এলাকায় নিরাপদ পানির জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েল ও পুকুর রয়েছে, সেখানে প্রথম পর্যায়ে পানি সরবরাহের প্রয়োজন ছিল না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় বসানো হয়েছে পানি সরবরাহের পাইপলাইন। ভাড়া বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০০টি সংযোগ। তবে কম গ্রাহকের কারণে প্রকল্পটি চালু রাখতে বর্তমানে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে পৌরসভাকে।
পৌরসভার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, পৌর এলাকায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ভবিষ্যতে সব ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে হাবিবা মজুমদার বললেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটির বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সরকার পরে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজারসহ দেশের ৪০টি পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় করা হয় এ প্ল্যান্ট নির্মাণ। ২০১৮ সালের জুনে পৌরসভার ফতেহপুর এলাকায় লোলা খালের পাশে ১ একর জমিতে শুরু হয় প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রায় ৪৫ হাজার পৌরবাসীর জন্য নির্মিত এই প্ল্যান্ট থেকে বর্তমানে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে মাত্র ২০০টি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নাগরিকদের আগ্রহ কম থাকায় পর্যাপ্ত সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের অনেকের বাড়িতেই টিউবওয়েল রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পুকুর থাকায় দৈনন্দিন কাজে পানির সংকট নেই। তাই মাসিক বিল দিয়ে পৌরসভার পানি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না তারা। ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বললেন, ‘আমাদের খাবার পানির জন্য টিউবওয়েল আছে। হাঁড়ি-পাতিল ধোয়ার কাজ পুকুরে করা যায়। তাই মাসে টাকা দিয়ে পৌরসভার পানির সংযোগ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।’
বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও কসবা গ্রামের বাসিন্দা মিলাদ মোহাম্মদ জয়নুল ইসলাম বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ পরিকল্পনা এবং চাহিদা নিরূপণ করা হয়নি। যেসব এলাকায় নিরাপদ পানির জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েল ও পুকুর রয়েছে, সেখানে প্রথম পর্যায়ে পানি সরবরাহের প্রয়োজন ছিল না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় বসানো হয়েছে পানি সরবরাহের পাইপলাইন। ভাড়া বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০০টি সংযোগ। তবে কম গ্রাহকের কারণে প্রকল্পটি চালু রাখতে বর্তমানে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে পৌরসভাকে।
পৌরসভার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, পৌর এলাকায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ভবিষ্যতে সব ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে হাবিবা মজুমদার বললেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটির বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সরকার পরে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন