ইউটিউব দেখে তরুণ কান্তির বাজিমাত: পুকুরেই ঝুলছে সারি সারি তরমুজ

আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ১২:৪০:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ১২:৪০:১৭ অপরাহ্ন
পুকুরের পানির ওপর সারি সারি মাচা। আর সেই মাচা থেকে ঝুলছে অসংখ্য তরমুজ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে লাউ কিংবা কুমড়োর বাগান। কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়বে ব্যতিক্রমী দৃশ্য—মাচায় ঝুলছে একের পর এক তরমুজ। ইউটিউব দেখে এমনই অভিনব পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তরুণ কান্তি।

ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ ছিল তরুণ কান্তির। লাউ, কুমড়া, শাক-সবজির পাশাপাশি মাছ চাষও করতেন তিনি। একপর্যায়ে ইউটিউব দেখে জানতে পারেন মাচায় ঝুলিয়ে তরমুজ চাষের পদ্ধতি। নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। গত বছর কিছুটা সাফল্য পাওয়ার পর এবার আরও বড় পরিসরে শুরু করেছেন এই চাষ।

তরুণ কান্তির বিশেষত্ব হলো—একই জায়গাকে কাজে লাগিয়ে করছেন সমন্বিত চাষাবাদ। প্রায় তিন বিঘা আয়তনের পুকুরে মাছ ও বিভিন্ন শাক-সবজি চাষের পাশাপাশি পুকুরের ওপর মাচা তৈরি করে চাষ করছেন তরমুজ। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চলতি মৌসুমে এক বিঘা জায়গায় তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। ফলনও পেয়েছেন আশানুরূপ। গত বছর তরমুজ বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছিলেন। এবার তাঁর লক্ষ্য প্রায় এক লাখ টাকা আয় করা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তরুণ কান্তি বলেন, কৃষির প্রতি ছোটবেলা থেকেই তাঁর আগ্রহ। ইউটিউব দেখে মাচায় তরমুজ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় এখন এ পদ্ধতিতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। বেকার যুবকদের চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর ব্যতিক্রমী চাষাবাদ দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। অনেকেই এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

কালকিনি থেকে আসা নতুন কৃষি উদ্যোক্তা ইব্রাহিম সবুজ বলেন, কেমিক্যালমুক্ত ও নিরাপদ তরমুজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিরাপদ তরমুজ হওয়ায় অনেকেই এখান থেকে তরমুজ কিনছেন এবং পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।

ডাসারের নবগ্রাম থেকে আসা প্রান্তিক কৃষক সৌরভ হালদার বলেন, তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও বর্ষাকালেও এর ভালো চাহিদা রয়েছে। মাচায় ঝুলিয়ে চাষ করায় ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি পুরো বাগানটিও দেখতে আকর্ষণীয়।
কালকিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, বাজারে চাহিদা, তুলনামূলক কম খরচ এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে অফ-সিজনে তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেকার যুবকদের কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন পদ্ধতির ব্যবহার যে তরুণদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে, তরুণ কান্তির উদ্যোগ যেন তারই উদাহরণ। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার পথও তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর পুকুরে ঝুলে থাকা সারি সারি তরমুজ এখন শুধু ব্যতিক্রমী দৃশ্য নয়, স্থানীয় তরুণদের জন্য হয়ে উঠেছে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা।
  
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :