বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ ৩ সেপ্টেম্বর। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার আহেরীটোলা স্ট্রিটে জন্ম নেওয়া এই কালজয়ী অভিনেতার বেড়ে ওঠা ভবানীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। মাত্র ১০ বছর বয়সে চক্রবর্তী স্কুলে পড়ার সময় ‘গয়সূর’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে পা রাখা উত্তমকুমার ম্যাট্রিক পাসের পর পণ্ডিত নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নেন এবং ১৯৪৪ সালে কলকাতা পোর্টে ক্যাশিয়ার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে গৌরীরানী গাঙ্গুলীকে বিয়ের পর একই বছর ‘দৃষ্টিদান’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে নায়ক হিসেবে ১৯৪৯ সালে ‘কামনা’ এবং পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘অরূপ কুমার’ পরিচয়ে অভিনয় করেও টানা ব্যর্থতার মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা পাওয়া সত্ত্বেও ধৈর্য ও বিনয়কে সঙ্গী করে নিজেকে নিষ্ঠার সঙ্গে তৈরি করতে থাকেন এই অভিনেতা।
১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্যের দেখা পান এবং একই বছর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি অভিনয়ে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক জুটির সূচনা ঘটে এবং একই বছর স্টার থিয়েটারে ‘শ্যামলী’ নাটকের মাধ্যমে শুরু হয় পেশাদার মঞ্চাভিনয়। ১৯৫৪ সালে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’, ‘সদানন্দের মেলা’ ও ‘ওরা থাকে ওধারে’ সিনেমাগুলো মুক্তির পর খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান তিনি। পঞ্চাশের দশকে ‘সবার উপরে’, ‘সাগরিকা’, ‘শাপমোচন’, ‘হারানো সুর’ ও ‘পথে হলো দেরী’র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে বক্স অফিসের নিশ্চিত নির্ভরতায় পরিণত হন উত্তমকুমার। ক্যারিয়ারে তিনি সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০টি করে এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২৬টি সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।
শুধু রোমান্টিক নায়কের চরিত্রেই নয়; বৈচিত্র্যময় অভিনেতা হিসেবে তিনি উকিল, সাংবাদিক, গায়ক, খলচরিত্র কিংবা দ্বৈত ভূমিকায় সমান দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৫৬ সালে ‘নবজন্ম’ ছবিতে প্লেব্যাক, ১৯৫৭ সালে ‘হারানো সুর’ দিয়ে প্রযোজনা, ১৯৬৬ সালে ‘শুধু একটি বছর’ ছবি দিয়ে পরিচালনা এবং ‘কাল তুমি আলেয়া’ দিয়ে সংগীত পরিচালনার কাজ করেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক, যার মধ্যে ‘নায়ক’ সিনেমা নিয়ে ১৯৬৬ সালে তিনি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন। ১৯৬৭ সালে ‘চিড়িয়াখানা’ ও ‘এন্টনী ফিরিঙ্গী’ চলচ্চিত্রের জন্য ভারতের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন উত্তমকুমার; অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে তিনি মোট পাঁচবার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে ‘ছোটাসি মুলাকাত’ দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে পদার্পণ করা এই শিল্পীকে ১৯৬৯ সালে কলকাতায় নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সত্তরের দশকেও সাফল্যের ধারা বজায় রাখা এই মহাতারকা ১৯৭৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায়ের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রে ধারাভাষ্য দেন। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন মহানায়ক। শারীরিক প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়েও তাঁর জাদুকরি হাসি, নিখুঁত বাচনভঙ্গি ও কালজয়ী অভিনয়প্রতিভা বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে অম্লান ও চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্যের দেখা পান এবং একই বছর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি অভিনয়ে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক জুটির সূচনা ঘটে এবং একই বছর স্টার থিয়েটারে ‘শ্যামলী’ নাটকের মাধ্যমে শুরু হয় পেশাদার মঞ্চাভিনয়। ১৯৫৪ সালে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’, ‘সদানন্দের মেলা’ ও ‘ওরা থাকে ওধারে’ সিনেমাগুলো মুক্তির পর খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান তিনি। পঞ্চাশের দশকে ‘সবার উপরে’, ‘সাগরিকা’, ‘শাপমোচন’, ‘হারানো সুর’ ও ‘পথে হলো দেরী’র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে বক্স অফিসের নিশ্চিত নির্ভরতায় পরিণত হন উত্তমকুমার। ক্যারিয়ারে তিনি সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০টি করে এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২৬টি সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।
শুধু রোমান্টিক নায়কের চরিত্রেই নয়; বৈচিত্র্যময় অভিনেতা হিসেবে তিনি উকিল, সাংবাদিক, গায়ক, খলচরিত্র কিংবা দ্বৈত ভূমিকায় সমান দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৫৬ সালে ‘নবজন্ম’ ছবিতে প্লেব্যাক, ১৯৫৭ সালে ‘হারানো সুর’ দিয়ে প্রযোজনা, ১৯৬৬ সালে ‘শুধু একটি বছর’ ছবি দিয়ে পরিচালনা এবং ‘কাল তুমি আলেয়া’ দিয়ে সংগীত পরিচালনার কাজ করেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক, যার মধ্যে ‘নায়ক’ সিনেমা নিয়ে ১৯৬৬ সালে তিনি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন। ১৯৬৭ সালে ‘চিড়িয়াখানা’ ও ‘এন্টনী ফিরিঙ্গী’ চলচ্চিত্রের জন্য ভারতের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন উত্তমকুমার; অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে তিনি মোট পাঁচবার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে ‘ছোটাসি মুলাকাত’ দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে পদার্পণ করা এই শিল্পীকে ১৯৬৯ সালে কলকাতায় নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সত্তরের দশকেও সাফল্যের ধারা বজায় রাখা এই মহাতারকা ১৯৭৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায়ের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রে ধারাভাষ্য দেন। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন মহানায়ক। শারীরিক প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়েও তাঁর জাদুকরি হাসি, নিখুঁত বাচনভঙ্গি ও কালজয়ী অভিনয়প্রতিভা বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে অম্লান ও চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে