​নভেম্বরেই গ্রিডে আসছে রূপপুরের বিদ্যুৎ

আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০২:০১:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০২:১৭:০৩ অপরাহ্ন
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিক ধাপে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচেই থাকবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রটি চালুর আগে কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব’ (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। এই ধাপটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা ফিউশন রিয়্যাকশন প্রক্রিয়া।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে মূলত দুটি ধাপ পার করতে হবে। প্রথম ধাপে রিয়্যাক্টরে ফিউশন ঘটাতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। এরপর টারবাইন ঘুরিয়ে স্টিম তৈরির মাধ্যমে উৎপাদনে যেতে লাগবে আরও ছয় সপ্তাহ। সব মিলিয়ে প্রায় নয় সপ্তাহ বা দুই মাস সময়ের প্রয়োজন। যদি কারিগরি কোনো বড় বাধা না আসে, তবে নভেম্বর মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুতের দামের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২০১৬ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৪ টাকা ৬৫ পয়সা ধরা হলেও বর্তমানে তা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সব ধরনের খরচ ও বিমা যুক্ত করার পরও প্রতি ইউনিটের দাম দুই অংকের নিচে, অর্থাৎ ১০ টাকার কম থাকবে। তাদের ধারণা, এটি ৯ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।

এদিকে, পারমাণবিক জ্বালানি বা ‘স্পেন্ট ফুয়েল’ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। যদিও প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী এই বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে বলে জানা গেছে। তবে কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হওয়া অন্যান্য ভারী বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্পেন্ট ফুয়েল ১০ বছর পর্যন্ত রিয়্যাক্টরে রাখা যাবে, তাই এটি নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই। তবে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ ভারী বর্জ্য তৈরি হবে, তার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। 

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :