রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি, দুই মাসে বেড়েছে রফতানিও

আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ১১:২৭:১৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৯-২০২৬ ১১:২৭:১৮ পূর্বাহ্ন
দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই ও আগস্টে মোট ৫৮৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে আসা ৪৯০ কোটি ডলারের তুলনায় ৯৩ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রফতানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্সে টানা দুই অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নতুন অর্থবছরের শুরুতেও অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ পরিমাণ ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থ পাচারে কড়াকড়ি আরোপ এবং হুন্ডির প্রবণতা কমে আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দরে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংকে বর্তমানে প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকার আশপাশে রয়েছে। গত মাসের শুরুতে যা ১২৩ টাকা ৮০ পয়সায় উঠেছিল। ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ডলারের দর ৮৪ টাকার নিচে ছিল। এরপর দ্রুত বাড়তে বাড়তে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তা ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৫২৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। বিপরীতে রফতানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কম। এরপরও বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিট রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল। পরে অর্থ পাচার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভে উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে বিপুল ডলার বিক্রি করে। এতে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে বিপিএম৬ হিসাবে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়।

এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পরও রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানায় সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আগস্টে রফতানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে রফতানি হয়েছিল ৩৯২ কোটি ডলার। তবে চলতি বছরের আগস্টের রফতানি জুলাইয়ের তুলনায় ৩০ কোটি ডলার কম। জুলাইয়ে রফতানি হয়েছিল ৪৭৩ কোটি ডলার।

গত বছরের আগস্টে রফতানি কম হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা। আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় রফতানিকারকেরা জুলাই মাসেই পণ্য জাহাজীকরণে বাড়তি তৎপরতা দেখান। পরে ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে। এর আগে শুল্কহার কত হতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের কেউ কেউ রফতানি আদেশ স্থগিত রেখেছিলেন। ফলে গত বছরের আগস্টে রফতানি তুলনামূলক কম ছিল।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। মাসটিতে ৩৬১ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। তবে জুলাইয়ে পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৮৯ কোটি ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৭১১ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :