বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় টানা তিন দিন ধরে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। সাগর উত্তাল থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌপথে স্টিমার ও ফেরি চলাচলসহ বন্ধ রয়েছে নৌযান।
এতে জরুরি রোগী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় পণ্য সরবরাহেও দেখা দিয়েছে সংকট।
তবে জরুরি রোগী পরিবহনের মতো বিশেষ প্রয়োজনে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে কিছু স্পিডবোট চলাচল করলেও তা অত্যন্ত সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। রবিবার (৩০ আগস্ট) জরুরি চিকিৎসার জন্য সন্দ্বীপ পৌরসভার ৮০ বছর বয়সী রওশান আরাকে স্পিডবোটে করে কুমিরা পারাপারের সময় তার স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঝড়-বৃষ্টি আর উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের দোলনায় নাকের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডারের নল সংযুক্ত রেখে পলিথিনে মুড়িয়ে অসুস্থ বৃদ্ধাকে কোলে রেখে স্বজনদের পারাপারের করুণ দৃশ্যের ভিডিওটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ যাত্রী আন্দোলন নেতা সালেহ নোমান বলেন, ‘জরুরী রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের এ চিত্র নিত্যদিনের। আবহাওয়া খারাপ হলে অসহায় হয়ে পড়ে দ্বীপবাসী। দীর্ঘদিন ধরে দাবী করার পরও এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কেউ।
এদিকে তিন দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়া ঘাটে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থাকায় অনেক গাড়ির কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) থেকে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ ও যাত্রীবাহী জাহাজ ‘মালঞ্চ’ চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী ও পর্যটকদের পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন।
ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ, ওয়াশরুম ও গোসলের ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালক ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
আটকে থাকা কয়েকজন চালক ও শ্রমিক জানান, দিনের পর দিন ঘাটে অবস্থান করতে গিয়ে তারা চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। খাবার, বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে যেতে চাওয়া রোগীরা। পাশাপাশি প্রবাসগামী যাত্রীদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। রবিবার সাপ্তাহিক কর্মদিবসের প্রথম দিন হলেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ছুটিতে বাড়িতে আসা অনেক চাকরিজীবী এখনো কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। রোগী পরিবহনে স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি সি-অ্যাম্বুল্যান্স নিষ্ক্রিয় থাকায় ক্ষোভ আরো বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানস দাস বলেন, ‘সি-অ্যাম্বুল্যান্স দুটি অচল। এগুলো রোগী পরিবহনের উপযোগী নয়। নতুন সি-অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সোমবার দুপুরে সর্বশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলের কাছাকাছি ও সাগরে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এর মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।’
কুমিরা ফেরিঘাটে বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত আর কে এন্টারপ্রাইজের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার করা হলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
টানা নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন চিকিৎসা ও কর্মসংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে মানুষ দ্বীপের বাইরে যেতে পারছেন না, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পণ্যও ঢুকতে পারছে না। ফলে নৌযোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সন্দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
এতে জরুরি রোগী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় পণ্য সরবরাহেও দেখা দিয়েছে সংকট।
তবে জরুরি রোগী পরিবহনের মতো বিশেষ প্রয়োজনে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে কিছু স্পিডবোট চলাচল করলেও তা অত্যন্ত সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। রবিবার (৩০ আগস্ট) জরুরি চিকিৎসার জন্য সন্দ্বীপ পৌরসভার ৮০ বছর বয়সী রওশান আরাকে স্পিডবোটে করে কুমিরা পারাপারের সময় তার স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঝড়-বৃষ্টি আর উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের দোলনায় নাকের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডারের নল সংযুক্ত রেখে পলিথিনে মুড়িয়ে অসুস্থ বৃদ্ধাকে কোলে রেখে স্বজনদের পারাপারের করুণ দৃশ্যের ভিডিওটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ যাত্রী আন্দোলন নেতা সালেহ নোমান বলেন, ‘জরুরী রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের এ চিত্র নিত্যদিনের। আবহাওয়া খারাপ হলে অসহায় হয়ে পড়ে দ্বীপবাসী। দীর্ঘদিন ধরে দাবী করার পরও এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কেউ।
এদিকে তিন দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়া ঘাটে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থাকায় অনেক গাড়ির কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) থেকে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ ও যাত্রীবাহী জাহাজ ‘মালঞ্চ’ চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী ও পর্যটকদের পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছেন।
ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ, ওয়াশরুম ও গোসলের ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালক ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
আটকে থাকা কয়েকজন চালক ও শ্রমিক জানান, দিনের পর দিন ঘাটে অবস্থান করতে গিয়ে তারা চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। খাবার, বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে যেতে চাওয়া রোগীরা। পাশাপাশি প্রবাসগামী যাত্রীদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। রবিবার সাপ্তাহিক কর্মদিবসের প্রথম দিন হলেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ছুটিতে বাড়িতে আসা অনেক চাকরিজীবী এখনো কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। রোগী পরিবহনে স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি সি-অ্যাম্বুল্যান্স নিষ্ক্রিয় থাকায় ক্ষোভ আরো বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানস দাস বলেন, ‘সি-অ্যাম্বুল্যান্স দুটি অচল। এগুলো রোগী পরিবহনের উপযোগী নয়। নতুন সি-অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সোমবার দুপুরে সর্বশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলের কাছাকাছি ও সাগরে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এর মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।’
কুমিরা ফেরিঘাটে বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত আর কে এন্টারপ্রাইজের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার করা হলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
টানা নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন চিকিৎসা ও কর্মসংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে মানুষ দ্বীপের বাইরে যেতে পারছেন না, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পণ্যও ঢুকতে পারছে না। ফলে নৌযোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সন্দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন