পাবনার মোবারকপুরে নতুন করে গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ

উত্তরাঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাবনায় সুখবর

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৪:০৫:৫৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৫:০৬:০৫ অপরাহ্ন
উত্তরাঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। পাবনার মোবারকপুরে নতুন করে গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে ইতোমধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালে রিগ ফাউন্ডেশন স্থাপন এবং ২০২৮ সালে মূল খননকাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি সফল হলে এ ক্ষেত্র থেকে ২০ বছর পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে।

পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোবারকপুরে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। ২০১৪ সালে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় কূপ খননের উদ্যোগ নেয় বাপেক্স। কিন্তু মাটির গভীরে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে নির্ধারিত গভীরতায় পৌঁছানোর আগেই কাজ স্থগিত হয়ে যায়। পরে প্রকল্পটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এবার ওই পরিত্যক্ত প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়ায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নতুন কূপটি ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খনন করা হবে। এজন্য উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বাপেক্স। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কূপ খনন ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১ খননের মেগা প্রকল্প অনুমোদন করে। এর মধ্যে সরকার ঋণ হিসাবে দেবে ৯০৯ কোটি টাকা এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়ন করবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এসএএম মেরাজুল আলম জানান, ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন। এ কারণেই চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানান, বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন ও প্যালাসেটিং চলছে। ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ কাজ চলবে। ২০২৭ সালে রিগ ফাউন্ডেশন স্থাপন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে মূল খননকাজ এবং ওই বছরের শেষ দিকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এ ক্ষেত্র থেকে ২০ বছর মেয়াদে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

মোবারকপুরে গ্যাসের সম্ভাবনা প্রথমে পাওয়া যায় ১৯৮০-৮১ সালে পেট্রোবাংলার ভূ-কম্পন জরিপে। পরে ১৯৮৩-৮৪ সালে একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান এবং ২০০৬-০৭ ও ২০০৭-০৮ সালে বাপেক্স আরও জরিপ চালায়। জরিপের ফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায় ২০১৪ সালে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি, অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, ২০১৪ সালে নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছানোর পর তীব্র গ্যাস চাপের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ওই চাপ অতিক্রম করে আরও গভীরে যাওয়ার প্রযুক্তি তখন ছিল না। এবার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খনন করা হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :