​পাখির নিরাপদ আশ্রয় পঞ্চগড়ের নাজিরপাড়া

আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০২:০৩:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০২:০৩:০৬ অপরাহ্ন
ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাখিদের কিচিরমিচির। গাছের ডালে ডালে ব্যস্ততা - কেউ বাসা গোছাচ্ছে, কেউ ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার, আবার কোনো বাসা থেকে উঁকি দিচ্ছে সদ্য ফোটা ছানা। শত শত পাখির কলকাকলি আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে প্রতিদিন যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় পঞ্চগড়ের বোদা পৌর এলাকার নাজিরপাড়া গ্রাম।

প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর বংশবিস্তারের জন্য নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে নাজিরপাড়াকে। বর্ষার শুরুতে জুন-জুলাই মাসে পাখিরা এখানে এসে বড় বড় গাছের ডালে বাসা বাঁধে। এরপর প্রায় ছয় থেকে সাত মাস অবস্থান করে বংশবিস্তার শেষে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে ফিরে যায় নিজ নিজ আবাসস্থলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরপাড়ার বড় বড় গাছের ডালজুড়ে অসংখ্য পাখির বাসা। শামুকখোলের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা ও ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ এখানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের এই মেলা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর ও জুয়েল আলম বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে এসব পাখি নিয়মিত নাজিরপাড়ায় আসছে। এখানে শামুকখোলের সংখ্যাই বেশি। কেউ পাখি শিকার করতে এলে গ্রামের তরুণ ও অভিভাবকেরা মিলে তা প্রতিহত করেন। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ায় পাখিগুলো প্রতিবছরই এখানে ফিরে আসে।

আরেক বাসিন্দা আল আমিন বলেন, গ্রামের মানুষের সচেতনতা ও ভালোবাসার কারণেই বছরের পর বছর ধরে নিরাপদে টিকে আছে এই আবাসস্থল। গ্রামবাসীরা নিয়মিত পাখিদের খাবারও দেন এবং কোনোভাবেই শিকার করতে দেন না।

নাজিরপাড়ার এই পাখির আবাসস্থল এখন পঞ্চগড়ের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের এক অনন্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানুষের ভালোবাসা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে পাখিদের এই নিরাপদ ঠিকানা টিকে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :