যশোরের শার্শায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একটি মৎস্য খামারে মাছের ব্যাপক মৃত্যু ঘটেছে, গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন সংবাদ প্রত্যাখান করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
ঘটনা তদন্তে গঠিত জেলা প্রশাসনের কমিটি বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়সমূহের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনায় একাধিক নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা মৎস্যচাষের সহায়ক নয়। এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবেই খামারটিতে মাছের ব্যাপক মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের নিকটবর্তী এএফ মৎস্য খামারে মাছের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বক্তব্য প্রচারিত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই এবং মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২২/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে রাত ১:৪২ থেকে রাত ২:২৬ পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরবর্তী সময়েও সংশ্লিষ্ট ফিডারে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু উক্ত মৎস্য খামারে মাছ মারা যেতে থাকে লোডশেডিং এর পূর্ব হতেই। একইভাবে, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে-গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন বক্তব্যেরও তথ্যগত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
বরং ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়সমূহের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনায় অত্যধিক মাছের মজুত ঘনত্ব, অধিক পরিমাণে উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ, ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য, পানির pH, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় অসামঞ্জস্য, প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবই মাছের মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, খামার মালিকপক্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একদিকে বিপুল পরিমাণ মাছ, বৃহৎ বিনিয়োগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন; অন্যদিকে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় জেনারেটর স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন। খামারপক্ষের দাবি করা বিনিয়োগ ও সম্পদের পরিমাণের তুলনায় জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেশন ব্যবস্থা সচল রাখার উপযোগী বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সামান্য হওয়ায় এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রদত্ত বক্তব্যে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে। একইভাবে, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে খামার মালিকপক্ষের প্রচারিত বক্তব্যও বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ রেকর্ড এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সার্বিকভাবে, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়; বরং অতিরিক্ত মাছের মজুত ঘনত্বের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, পর্যাপ্ত এয়ারেশন, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করাসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জনস্বার্থে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে এ বিষয়ে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাই ব্যতীত কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে
ঘটনা তদন্তে গঠিত জেলা প্রশাসনের কমিটি বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়সমূহের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনায় একাধিক নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা মৎস্যচাষের সহায়ক নয়। এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবেই খামারটিতে মাছের ব্যাপক মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের নিকটবর্তী এএফ মৎস্য খামারে মাছের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বক্তব্য প্রচারিত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই এবং মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২২/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে রাত ১:৪২ থেকে রাত ২:২৬ পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরবর্তী সময়েও সংশ্লিষ্ট ফিডারে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু উক্ত মৎস্য খামারে মাছ মারা যেতে থাকে লোডশেডিং এর পূর্ব হতেই। একইভাবে, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে-গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন বক্তব্যেরও তথ্যগত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
বরং ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়সমূহের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনায় অত্যধিক মাছের মজুত ঘনত্ব, অধিক পরিমাণে উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ, ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য, পানির pH, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় অসামঞ্জস্য, প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবই মাছের মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, খামার মালিকপক্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একদিকে বিপুল পরিমাণ মাছ, বৃহৎ বিনিয়োগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন; অন্যদিকে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় জেনারেটর স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন। খামারপক্ষের দাবি করা বিনিয়োগ ও সম্পদের পরিমাণের তুলনায় জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেশন ব্যবস্থা সচল রাখার উপযোগী বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সামান্য হওয়ায় এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রদত্ত বক্তব্যে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে। একইভাবে, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে খামার মালিকপক্ষের প্রচারিত বক্তব্যও বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ রেকর্ড এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সার্বিকভাবে, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়; বরং অতিরিক্ত মাছের মজুত ঘনত্বের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, পর্যাপ্ত এয়ারেশন, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করাসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জনস্বার্থে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে এ বিষয়ে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাই ব্যতীত কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে