মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন

আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন
একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের খামারি হাফেজ রাকিবুল ইসলাম। মহিষ পালন ছেড়ে মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালন শুরু করেছেন তিনি। মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা তার খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন এই খামারি।

গরু ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই আসছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। ২০২৩ এক খামার থেকে দুটি দুম্বা কিনে আনেন তিনি। শুরু করেন খামার। অল্প সময়ে পান সফলতা। তার সংগ্রহ করা দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে তিনটি দুম্বা দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। দুম্বার ক্রেতারা বেশির ভাগ কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে ছোটাছুটি করছে স্বাভাবিকভাবেই। দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধে সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে কম রোগবালাই ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেক অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হচ্ছেন।

খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি আগে মহিষ লালন পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমত করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন পালন করা বন্ধ করে দেই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে দুটি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।”

তিনি বলেন, “এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার।”

দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্দ্যোক্তা আব্দুল মালেক বলেন, “আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বা পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে দুম্বা পালনের।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল বলেন, “শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন পালন সম্ভব। যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষনিক সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।” সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :