খোয়াই নদীর বাঁধে আবার ভাঙন

আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাস পর আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।   রোববার (২৩ আগস্ট) বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলা অর্ধশতাধিক গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা যাওয়ায় এলাকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছেন।

 প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় কয়েকটি গ্রামের রাস্তা ঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাঁধ ভাঙার কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এর আগে গত ৯ জুলাই লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিশেষ বরাদ্দে বাঁধ মেরামত শুরু করে। প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংস্কারকাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

পাউবো সূত্র জানায়, গত রোববার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে ২০-২৫টি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় গত রাতেই মধ্যেই অনেক এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ নিরাপদ স্থানে উঠেছেন।

সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘সঠিক সময়ে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয়বার ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে। বাঁধ ভেঙে বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা।’

চরহামুয়ার আব্দুল হক বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙে গেল। গত বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটি তারা এখনও পুষিয়ে উঠতে পারেননি। এরই মধ্যে আবারও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরা সর্বস্বান্ত হবেন।’

বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার ভাষ্য, ‘বাঁধ মেরামতের কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে। তা না হলে বাঁধ মেরামতের এত দিন লাগার কথা নয়। তিনি জানান, বাঁধ ভেঙে যাওযায় সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই আসবাব সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, আসাম ও ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি ভেঙে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে। বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে বর্ষার মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :