রংপুরে চার খুন: শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল

আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ১১:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ১১:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা যখন দেশ জুড়ে আলোচনায়, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে আগামী চক্রবর্তীর একটি ছবি। যে ছবিতে ছিল একটি নতুন জীবন শুরুর ইঙ্গিত। পছন্দের অদিত করের সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসার কথা ছিল আগামী চক্রবর্তীর। কিন্তু মা-বাবা আর একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ‌আগামীও।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের একমাত্র মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী। সম্প্রতি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা পূর্বপরিচিত অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাদকাসক্ত বখাটে যুবকদের নির্মমতায় শুরু না হতেই শেষ হয়ে গেছে অদিত কর ও আগামী চক্রবর্তীর স্বপ্নগল্প।

অদিতের এক বন্ধু জানান, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথাও হচ্ছিল। কিন্তু এমন ঘটনায় অদিত হতবাক। সেই বন্ধু আরও জানান, অদিত কর হবু স্ত্রী আগামীকে হারিয়ে ‘ট্রমাটাইজড’। কদিন আগে অদিতের বাবা মারা গেছেন। এখন তার হবু স্ত্রীও মারা গেলেন। পরিস্থিতিতে অদিতকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা তার জানা নেই।

এদিকে, অদিত কর নিজের ফেসবুক আইডিতে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই ছবিতে লিখেছেন__ ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি। চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহতরা হলেন- রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাত ১টার দিকে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন তার মাসি পূজা চক্রবর্তী। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পূজা চক্রবর্তীই শনিবার রাতে তার বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের পরিবারের খোঁজ নিতে আসেন। আর তখন তিনি জানতে পারেন পরিবারের সবাইকে খুন করা হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :