যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় ঋণ ভবিষ্যতে দেশটির সরকার, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ অনেক বছর ধরেই বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ বাড়ার গতি আরো বেড়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার বেশি থাকায় ঋণের সুদ পরিশোধেও সরকারকে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পিটারসন বলেন, ঋণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী ছয় বছরের মধ্যে তা ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অথচ ১০ বছরেরও কম সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছিল প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ দেশটির বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানষ অবসরে যাচ্ছেন।
ফলে সরকারকে বয়স্কদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।এ ছাড়া গত কয়েক বছরে সরকার কর কমিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও সরকার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। এসব কারণে সরকারের ঋণ আরো বেড়েছে। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ এর আগে ২০২৮ সালের মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের প্রায় দুই বছর আগেই ঋণ এই পরিমাণে পৌঁছে গেছে।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সরকারের আয়ও ব্যয়ের তুলনায় কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারের বাজেট ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ ও বাজেট ঘাটতি এভাবে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। এটি হবে রেকর্ড পরিমাণ। কয়েক বছর আগেও সুদের হার কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার তুলনামূলক কম খরচে ঋণ নিতে পারত। কিন্তু করোনা মহামারির পর মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে শুরু করে। ফলে সরকারের ঋণের সুদও বেড়ে যায়।
‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর সিনিয়র পলিসি ডিরেক্টর মার্ক গোল্ডউইন বলেন, গত পাঁচ বছরে সরকারের সুদ পরিশোধের খরচ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। তিনি জানান, সোশ্যাল সিকিউরিটির পর সুদ পরিশোধ এখন সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়গুলোর একটি। এই খাতে সরকারের ব্যয় জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
ঋণের সুদ পরিশোধে এত বেশি অর্থ খরচ হওয়ায় সরকার শিক্ষা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আগের মতো অর্থ ব্যয় করতে সমস্যায় পড়ছে।
গোল্ডউইন বলেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন অতীতের ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ করছে। তার মতে, নতুন ঋণের কারণে সুদ বাড়ছে, আবার সেই সুদ পরিশোধের জন্য আরো ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলসহ অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়, এমন একটি আর্থিক পথে এগোচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঋণ ও বাজেট ঘাটতি কমানোর বিষয়ে কংগ্রেসে বড় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় দেশটির ক্রেডিট রেটিংও কমেছে।
গত বছর রিপাবলিকানদের উদ্যোগে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। ফলে ২০২৭ সালের আগে দেশটির ঋণসীমা নিয়ে কংগ্রেসকে আবার বড় সিদ্ধান্ত নিতে নাও হতে পারে। ঋণসীমা হলো সরকারের সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নেওয়ার অনুমতি রয়েছে, তার একটি নির্ধারিত সীমা। এই সীমা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসকে বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে এ নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়ার প্রভাব এখন দেশটির বন্ড বাজারেও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সুদের হার বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়িয়ে দিতে পারে। মঙ্গলবার ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বা ‘ইল্ড’ ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ডও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, বড় বাজেট ঘাটতি, সরকারি ঋণ এবং ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কিভাবে নির্ধারণ করবে, এসব বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসব কারণে তারা মার্কিন সরকারের ঋণপত্রে বিনিয়োগের জন্য বেশি সুদ দাবি করছেন।
১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বাড়লে সাধারণত বাড়ি কেনার ঋণ বা মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদও বাড়তে পারে। সুদের হার বেশি হলে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন বিনিয়োগে কম আগ্রহী হতে পারে। সরকারের জন্যও নতুন ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে যায়।
‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সরকারি ঋণ শুধু সরকারের হিসাবের বিষয় নয়। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব আসে।
তিনি বলেন, ঋণ যত বাড়বে, সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ তত কমবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে তারা দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার বন্ড বাজারের পরিস্থিতি ও বাড়তে থাকা সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
চলতি মাসের শুরুতে ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের একটি নিলামে ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ ইল্ড দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, মার্কিন সরকারের ঋণপত্র কিনতে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশি সুদ চাইছেন।
২০২৫ সালে মুডি’স যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দেয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ‘এএএ’ বা সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিংও হারায়। তবে দেশটির ঋণের মান এখনো বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য বড় দেশও একই সমস্যায় পড়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের সরকারি বন্ডের ইল্ডও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বা তার কাছাকাছি রয়েছে। এসব দেশের বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পিটারসন বলেন, ঋণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী ছয় বছরের মধ্যে তা ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অথচ ১০ বছরেরও কম সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছিল প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ দেশটির বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানষ অবসরে যাচ্ছেন।
ফলে সরকারকে বয়স্কদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।এ ছাড়া গত কয়েক বছরে সরকার কর কমিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও সরকার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। এসব কারণে সরকারের ঋণ আরো বেড়েছে। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ এর আগে ২০২৮ সালের মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের প্রায় দুই বছর আগেই ঋণ এই পরিমাণে পৌঁছে গেছে।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সরকারের আয়ও ব্যয়ের তুলনায় কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারের বাজেট ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ ও বাজেট ঘাটতি এভাবে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। এটি হবে রেকর্ড পরিমাণ। কয়েক বছর আগেও সুদের হার কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার তুলনামূলক কম খরচে ঋণ নিতে পারত। কিন্তু করোনা মহামারির পর মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে শুরু করে। ফলে সরকারের ঋণের সুদও বেড়ে যায়।
‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর সিনিয়র পলিসি ডিরেক্টর মার্ক গোল্ডউইন বলেন, গত পাঁচ বছরে সরকারের সুদ পরিশোধের খরচ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। তিনি জানান, সোশ্যাল সিকিউরিটির পর সুদ পরিশোধ এখন সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়গুলোর একটি। এই খাতে সরকারের ব্যয় জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
ঋণের সুদ পরিশোধে এত বেশি অর্থ খরচ হওয়ায় সরকার শিক্ষা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আগের মতো অর্থ ব্যয় করতে সমস্যায় পড়ছে।
গোল্ডউইন বলেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন অতীতের ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ করছে। তার মতে, নতুন ঋণের কারণে সুদ বাড়ছে, আবার সেই সুদ পরিশোধের জন্য আরো ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলসহ অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়, এমন একটি আর্থিক পথে এগোচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঋণ ও বাজেট ঘাটতি কমানোর বিষয়ে কংগ্রেসে বড় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় দেশটির ক্রেডিট রেটিংও কমেছে।
গত বছর রিপাবলিকানদের উদ্যোগে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। ফলে ২০২৭ সালের আগে দেশটির ঋণসীমা নিয়ে কংগ্রেসকে আবার বড় সিদ্ধান্ত নিতে নাও হতে পারে। ঋণসীমা হলো সরকারের সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নেওয়ার অনুমতি রয়েছে, তার একটি নির্ধারিত সীমা। এই সীমা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসকে বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে এ নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়ার প্রভাব এখন দেশটির বন্ড বাজারেও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সুদের হার বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়িয়ে দিতে পারে। মঙ্গলবার ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বা ‘ইল্ড’ ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ডও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, বড় বাজেট ঘাটতি, সরকারি ঋণ এবং ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কিভাবে নির্ধারণ করবে, এসব বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসব কারণে তারা মার্কিন সরকারের ঋণপত্রে বিনিয়োগের জন্য বেশি সুদ দাবি করছেন।
১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বাড়লে সাধারণত বাড়ি কেনার ঋণ বা মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদও বাড়তে পারে। সুদের হার বেশি হলে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন বিনিয়োগে কম আগ্রহী হতে পারে। সরকারের জন্যও নতুন ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে যায়।
‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সরকারি ঋণ শুধু সরকারের হিসাবের বিষয় নয়। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব আসে।
তিনি বলেন, ঋণ যত বাড়বে, সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ তত কমবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে তারা দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার বন্ড বাজারের পরিস্থিতি ও বাড়তে থাকা সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
চলতি মাসের শুরুতে ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের একটি নিলামে ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ ইল্ড দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, মার্কিন সরকারের ঋণপত্র কিনতে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশি সুদ চাইছেন।
২০২৫ সালে মুডি’স যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দেয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ‘এএএ’ বা সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিংও হারায়। তবে দেশটির ঋণের মান এখনো বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য বড় দেশও একই সমস্যায় পড়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের সরকারি বন্ডের ইল্ডও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বা তার কাছাকাছি রয়েছে। এসব দেশের বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন