​তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত ‍‍'রূঢ় ও অহংকারী‍‍': বীণা সিক্রি

আপলোড সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ১২:০১:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ১২:১৩:৪০ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের পূর্বশর্ত হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি উত্থাপন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। ঢাকার এমন কূটনৈতিক অবস্থানকে তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ়’ এবং ‘অহংকারী’ বলে বর্ণনা করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বীণা সিক্রি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার হস্তান্তরের বিষয়টি জুড়ে দেওয়ার এই প্রয়াস অত্যন্ত বিস্ময়কর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসা এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিপন্থী। তাঁর মতে, এ জাতীয় বক্তব্য ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফরের গুরুত্ব বিচারে ঢাকার সদিচ্ছার অভাবকেই প্রকাশ করে।

ভারতের এই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে তাঁকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। নয়াদিল্লি আশা করেছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে তিনি ভারতকে নির্বাচন করবেন। তবে দীর্ঘ ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও ঢাকা সেই আহ্বানের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানায়নি। এমনকি সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে দেওয়া দ্বিতীয় আহ্বানেও ঢাকার পক্ষ থেকে দৃশ্যমান জবাব মেলেনি।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিকে দ্বিপক্ষীয় সফরের শর্ত হিসেবে দাঁড় করানোর বিরোধিতা করে বীণা সিক্রি মন্তব্য করেন, প্রত্যর্পণ সম্পূর্ণ একটি আইনি পদ্ধতি, যা সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এটি বাংলাদেশের জানা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অপেশাদার শর্ত জুড়ে দেওয়া অনাবশ্যক ও অ-কূটনৈতিক আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এর আগে গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানান, ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির স্বার্থে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ব্যক্তিদের ফেরাতে নয়াদিল্লির দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ঢাকা।

অবশ্য ভারত সরকার ইতিপূর্বেই পরিষ্কার করেছে যে, উক্ত সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের প্রশাসনিক কোনো সম্পর্ক ছিল না, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের আয়োজন ছিল। সাবেক এই কূটনীতিক মনে করেন, উভয় দেশের সরকার যখন সফরের দিনক্ষণ নিয়ে কাজ করছে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন বক্তব্য সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ যদি সত্যিই এই সফর বাস্তবায়নে আগ্রহী হয়, তবে এই কৌশল পরিহার করে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে পদচ্যুত হওয়ার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে তাঁর একটি উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নতুন দিল্লির সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর সূত্র ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া তরান্বিত করার দাবি ফের তোলে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অবিলম্বে ফেরত প্রদান এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার আসামিদের হস্তান্তরে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা চলমান থাকলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো সময় নির্ধারিত হয়নি।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :