নারীদের জন্য থাকবে ১০০টি

ঢাকায় ২০০ বৈদ্যুতিক বাস কিনবে সরকার: সড়কমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০২:৪২:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০২:৫৯:৫২ অপরাহ্ন
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০টি বাস বিভিন্ন রুটে শুধু নারী যাত্রীদের জন্য পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাসসেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের আয়োজনে ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের আওতায় বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, দরপত্রসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৈদ্যুতিক বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাতেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেখ রবিউল আলম জানান, ২০০টি বৈদ্যুতিক বাসের মধ্যে ১০০টি বিভিন্ন রুটে নারী যাত্রীদের জন্য পরিচালনা করা হবে। এতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক বাসসেবার পরিধি বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে। এসব বাসের একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা শুধু বাসে ওঠার পর নিশ্চিত করলেই হবে না; বাসের জন্য অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যে পৌঁছে নামার সময়ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ওঠানামার সময় হয়রানি বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাঁদের সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তারও বেশি। বর্তমানে সংস্থাটি লোকসানে নেই, বরং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও সেবার মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

নারীদের জন্য চালু হওয়া বাসসেবা যাতে আগের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, আগামী দুই মাস পর এর মান আরও উন্নত করতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। শুধু উদ্বোধনের মধ্যে এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সেবাটি টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

তিন শহরে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :