৪০ বছর শিক্ষকতা শেষে শিক্ষিকার রাজকীয় বিদায়

আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০১:২২:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০১:২২:৪১ অপরাহ্ন
দীর্ঘ ৩৯ বছর একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন বেলা রানী দেব। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার অসংখ্য স্মৃতি ও আবেগ। তাকে বিদায় জানাতে বিদ্যালয়ে জড়ো হয়েছেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে ছড়িয়ে রাজকীয় বিদায় জানানো হয়েছে বেলা রানী দেবকে।

বেলা রানী দেব ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

বিদায়ের মুহূর্তে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষিকা বেলা রানী দেব। তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। যাদের প্রথমে পড়িয়েছি, তারা আমাকে দিদি মনি ডাকত। পরে তাদের সন্তানরা আমার কাছে পড়েছে। তখন হয়ে গেলাম পিসি মনি। বিদায় বেলায় প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের নাতি-নাতনিরাও পড়েছে। আমি তাদের নানি মনি হয়েছি। এই বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছি ভাবতেই মনে হাহাকার করছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল গড়িয়ে তখন দুপুর। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন অভিভাবকরাও। বর্তমান শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা ফুলসহ নানা উপহার নিয়ে তাকে বিদায় জানান। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় দিতে এসে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, দিদি মনির বিদায় বেলায় আমাদের বিদ্যালয়ের প্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ দেশের সবাই মিলে চেয়েছি দিনটিকে একটু স্মরণীয় করে রাখতে। একজন শিক্ষাগুরু হিসেবে দিদি মনির ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। শুধু চেষ্টা করেছি দিদি মনিকে যেন একটু সম্মান দেখাতে পারি।

বিদায়ী শিক্ষিকাকে প্রথমে রকিং চেয়ারে বসিয়ে শূন্যে ভাসিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে তোলা হয় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে। সামনে মোটরসাইকেল আর পেছনে শতাধিক শিক্ষার্থীর শোভাযাত্রা—পুরো আয়োজন যেন পরিণত হয় এক রাজকীয় বিদায়ে। ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে শিক্ষিকার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় তাকে।

ব্যতিক্রমী এই বিদায় আয়োজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থী ও সমাজের সম্মানকে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মত তাদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১২ বছর ধরে বেলা রানী দেব আমার সহকর্মী। এই দীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি কতটা আন্তরিক ছিলেন, তা দেখেছি। একজন আদর্শ শিক্ষকের সব গুণ তার মধ্যে ছিল। তিনি বিদায় নিচ্ছেন—এ কথা মনে হলেই কষ্ট পাচ্ছি।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, একজন শিক্ষকের বিদায় বেলায় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মিলে যে আয়োজন করেছে, তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষকদের মর্যাদা সব সময় সবার ওপরে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে যোগ্য সম্মান দিয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :