অধিনায়ক নাজমুল

এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা জয়

আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০২:২৫:৩৫ অপরাহ্ন
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, যেকোনো সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ডারউইনের মার্লিনস পার্কে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পাঁচ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় নাজমুলের দল।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে তাদের নিজেদের কন্ডিশনে হারানো অন্য যেকোনো সাফল্যের চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, যেকোনো সংস্করণ ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা জয়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পাওয়ার কঠিন বাস্তবতাও উঠে এসেছে এই ম্যাচে। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল শ্রীলঙ্কা এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি। পাকিস্তানও সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল।

চলতি শতাব্দীতে ভারতের পর দ্বিতীয় এশীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্ট জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাঠে পাওয়া জয়কে আরও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন নাজমুল।

এই জয়ে অধিনায়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাজমুল। প্রথম ইনিংসে ৮৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করেন তিনি। পাশাপাশি পুরো ম্যাচে বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানো ও কৌশলগত সিদ্ধান্তেও বিচক্ষণতার পরিচয় দেন।

নাজমুল জানান, দলের সবাই দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছে। প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেওয়ায় এমন সাফল্য এসেছে। দলের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত হলেও এখানেই থেমে যেতে চান না। ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনই দলের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের এই জয়ে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে পেস বোলিং। দেশের মাটিতে স্পিননির্ভর ক্রিকেটের ওপর দীর্ঘদিন নির্ভরতার বিপরীতে ডারউইনে পেসারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন হাসান মাহমুদ।

দেশের পেস বোলিংয়ের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন নাজমুল। তাঁর মতে, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট খেলার আগ্রহ তুলনামূলক কম ছিল। এখন সেই মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তরুণ পেসাররা নিয়মিত লাল বলের ক্রিকেট খেলতে এবং দীর্ঘ সময় বোলিং করতে আগ্রহী। মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও পেসারদের টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগী হতে উৎসাহিত করছেন বলে জানান তিনি।

ডারউইন টেস্টে ব্যাট হাতেও বড় অবদান রেখেছেন তানজিদ হাসান তামিম। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই ওপেনার প্রথম ইনিংসে ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে শতক তুলে নেন। তাঁর এই ইনিংসের প্রশংসা করে নাজমুল বলেন, টপ অর্ডারে তানজিদের সংযত ব্যাটিং বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেছে।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট নিয়েও সতর্ক নাজমুল। তাঁর মতে, জয়ের কোনো গোপন কৌশল নেই। পাঁচ দিন ধরে ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট খেলাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিটি সেশনে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা এবং নিচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান পাওয়াকে তিনি পরবর্তী ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু হওয়ার কথা।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের
টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন, ভিডিওকলে যে বার্তা দিলেন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :