‘এই যে ঘরডা আছে, পানিডা বাড়লেই এইডাও যাইবগা’

আপলোড সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০২:৪৭:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০২:৪৭:০৪ অপরাহ্ন
“সবকিছু গাঙে নিয়া গেছে গা। অহন আর কিছু করার নাই। এই যে ঘরডা আছে, পানিডা বাড়লেই এইডাও যাইবগা। আমগোর জায়গা নাই, জমিন নাই। কিছু জমিন ছিল, তাও গাঙে ভাইঙ্গা নিয়া গেছে। এই চালার নিচে বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া কোনোমতে দিন পার করতেছি। অহন এইটুকুও যদি গাঙে ভাইঙ্গা নেয়, কই যামু, কী করমু- এই চিন্তাই কইরা দিন কাটে।” এভাবেই হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সুফিয়া বেগম। চোখের সামনে নিজের শেষ আশ্রয়টুকু মগড়া নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

সুফিয়া বেগম নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের গাভুরকাছ গ্রামের একলাছ মিয়ার স্ত্রী। কয়েক দশক আগে বিয়ের পর এ গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। একসময় ছিল বসতভিটা, ছিল আবাদি জমি। মগড়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে হারিয়েছেন জমি ও ঘরবাড়ির বড় অংশ। এখন টিকে থাকা ছোট ঘরটিও রয়েছে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে।

শুধু সুফিয়া বেগম নন, একই আতঙ্কে দিন কাটছে আটপাড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের। বর্ষা শুরু হওয়ার পর নদীর প্রবল স্রোতে গাভুরকাছ, গোয়াতলা, কালিয়াখালী, বাখরপুর ও জয়নগর এলাকায় তীব্র হয়েছে ভাঙন। স্থানীয়দের হিসাবে, এসব এলাকার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার কমবেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীর স্বাভাবিক স্রোতের পাশাপাশি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়ছে নদীর পাড়, সামান্য স্রোতেই শুরু হচ্ছে ভাঙন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মগড়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় কোথাও কোথাও মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর কিনারে থাকা বসতঘরগুলো রয়েছে ঝুঁকিতে। কেউ ঘর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় অপেক্ষা করছেন।

গাভুরকাছ গ্রামের বাসিন্দা ওমর হাসান রুপন বলেন, “মগড়ার স্রোত দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। চোখের সামনে জমি ও বসতভিটা নদীতে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন দিয়েছি। এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না। জিও ব্যাগ ফেলেও সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। মগড়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বর্ষায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্ভে করে প্রয়োজনীয় অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ড্রেজার ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে আরো কঠোর অবস্থান নেবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :