মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে ফিবি গেটসের বহুল আলোচিত স্টার্টআপ ‘ফিয়া’-র বিরুদ্ধে ‘কুকি স্টাফিং’ নামক অনলাইন কমিশন জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণিত হলে হতে পারে সর্বোচ্চ শাস্তি ২০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা।
বুধবার (১২ আগস্ট) নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদনে জানা যায়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী সোফিয়া কিয়ানিকে সঙ্গে নিয়ে ফিবি গেটস একটি ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপ গড়ে তোলেন। এটি মূলত একটি ব্রাউজার এক্সটেনশন, যা ক্রেতাদের অনলাইন কেনাকাটার সময় নানা ডিসকাউন্ট কোড খুঁজে পেতে সাহায্য করে। ক্রেতারা যদি এই অ্যাপের কুপন কোড ব্যবহার করেন, তখন একটি ‘কুকি’ ট্র্যাকার সক্রিয় হয় এবং সংস্থাটি রিটেইলারের কাছ থেকে কমিশন পায়।
তবে ফিয়া-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ক্রেতারা অ্যাপের কোনো ডিসকাউন্ট কোড ব্যবহার না করলেও সংস্থাটি বেআইনিভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘কুকি’ ড্রপ করত এবং বিক্রির সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বা কমিশন নিজেরা দাবি করত।
গবেষকদের অনুসন্ধানের পর গত জুলাই মাসে সংস্থাটি এটিকে একটি ‘কারিগরি ত্রুটি বা সফটওয়্যার বাগ’ বলে দাবি করেছিল এবং বিষয়টির সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে ফিয়া-র অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক মেসেজ ও বার্তা আদান-প্রদান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এই উদ্যোক্তারা অন্তত সাত মাস ধরে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ‘গিভনার ল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান আইনজীবী এরিয়েল গিভনার সতর্ক করে লিখেছেন, "কুকি স্টাফিং সাধারণত মার্কিন আদালতে 'ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড' হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।"
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফিয়া-র অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুন মাসে তাদের অর্জিত মোট কমিশনের প্রায় ৫১ শতাংশই এসেছিল এই অবৈধ ‘কুকি স্টাফিং’ থেকে।
গত ৭ জুলাই এই ফিচারের অটো-ড্রপ বন্ধ করার পর প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গড় আয় ৮০ হাজার ডলার থেকে একলাফে কমে ১০ থেকে ২৮ হাজার ডলারে নেমে আসে।
অভিযোগ স্বীকার করে ফিয়া-র একজন মুখপাত্র নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে বলেন, 'ভুল ও অন্যায্য তথ্য ট্র্যাকিংয়ের কারণ হওয়া সমস্ত ফিচার গত ৭ জুলাই সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি লেনদেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছি এবং পার্টনার ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত কমিশন ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। পরবর্তীতে যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য আমরা একজন হেড অব কমপ্লায়েন্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।'
২০১৫ সালে হেইলি বিবার, ক্রিস জেনারের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের হাত ধরে ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলারের বেশি ফান্ডিং সংগ্রহ করা এই স্টার্টআপটির কমিশন জালিয়াতি সামনে আসার পর অন্যতম অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ‘ইমপ্যাক্ট ডটকম’ ইতোমধ্যেই তাদের স্থগিত করেছে। এ ছাড়া ফিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ব্যাকগ্রাউন্ডে অন্যায়ভাবে নেওয়া সমস্ত অর্থ ফেরত দেবে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
বুধবার (১২ আগস্ট) নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদনে জানা যায়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী সোফিয়া কিয়ানিকে সঙ্গে নিয়ে ফিবি গেটস একটি ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপ গড়ে তোলেন। এটি মূলত একটি ব্রাউজার এক্সটেনশন, যা ক্রেতাদের অনলাইন কেনাকাটার সময় নানা ডিসকাউন্ট কোড খুঁজে পেতে সাহায্য করে। ক্রেতারা যদি এই অ্যাপের কুপন কোড ব্যবহার করেন, তখন একটি ‘কুকি’ ট্র্যাকার সক্রিয় হয় এবং সংস্থাটি রিটেইলারের কাছ থেকে কমিশন পায়।
তবে ফিয়া-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ক্রেতারা অ্যাপের কোনো ডিসকাউন্ট কোড ব্যবহার না করলেও সংস্থাটি বেআইনিভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘কুকি’ ড্রপ করত এবং বিক্রির সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বা কমিশন নিজেরা দাবি করত।
গবেষকদের অনুসন্ধানের পর গত জুলাই মাসে সংস্থাটি এটিকে একটি ‘কারিগরি ত্রুটি বা সফটওয়্যার বাগ’ বলে দাবি করেছিল এবং বিষয়টির সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে ফিয়া-র অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক মেসেজ ও বার্তা আদান-প্রদান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এই উদ্যোক্তারা অন্তত সাত মাস ধরে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ‘গিভনার ল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান আইনজীবী এরিয়েল গিভনার সতর্ক করে লিখেছেন, "কুকি স্টাফিং সাধারণত মার্কিন আদালতে 'ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড' হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।"
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফিয়া-র অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুন মাসে তাদের অর্জিত মোট কমিশনের প্রায় ৫১ শতাংশই এসেছিল এই অবৈধ ‘কুকি স্টাফিং’ থেকে।
গত ৭ জুলাই এই ফিচারের অটো-ড্রপ বন্ধ করার পর প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গড় আয় ৮০ হাজার ডলার থেকে একলাফে কমে ১০ থেকে ২৮ হাজার ডলারে নেমে আসে।
অভিযোগ স্বীকার করে ফিয়া-র একজন মুখপাত্র নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে বলেন, 'ভুল ও অন্যায্য তথ্য ট্র্যাকিংয়ের কারণ হওয়া সমস্ত ফিচার গত ৭ জুলাই সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি লেনদেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছি এবং পার্টনার ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত কমিশন ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। পরবর্তীতে যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য আমরা একজন হেড অব কমপ্লায়েন্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।'
২০১৫ সালে হেইলি বিবার, ক্রিস জেনারের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের হাত ধরে ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলারের বেশি ফান্ডিং সংগ্রহ করা এই স্টার্টআপটির কমিশন জালিয়াতি সামনে আসার পর অন্যতম অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ‘ইমপ্যাক্ট ডটকম’ ইতোমধ্যেই তাদের স্থগিত করেছে। এ ছাড়া ফিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ব্যাকগ্রাউন্ডে অন্যায়ভাবে নেওয়া সমস্ত অর্থ ফেরত দেবে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে